নদীতে চাঁদের বিম্ব

নদীতে চাঁদের বিম্ব নাচে
তালে তালে
আর ওই চাঁদ থাকে
আকাশের পালে।

চাঁদের কপালে টিপ
জোনাকি জ্বলে
মেঘেরাও যাচ্ছে ভেসে
আকাশের তলে।।

আমিও বন্ধুর ছায়া
জগতের মায়া
মিশে থাকি তোমার
আনন্দ জলে।।

গুলশান। ডিসেম্বর ৬, সকাল বেলা।

আমার রাজনীতি

১৯৫৫/৫৬ সালের দিকে আমি ফেণীতে ছাত্র ইউনিয়ন গঠণের সাথে সংশ্লিশষ্ট ছিলাম। তখন আমি ক্লাশ নাইনে পড়ি। স্কুলের দেয়াল পত্রিকার সম্পাদনা করি । এর আগে আমি মাষ্টারম।পাড়ার রবীন্দ্র পাঠাগারের সদস্য ছিলাম। সেখানে কলেজের শিক্ষকরাও সদস্য ছিলেন। ফেণী কলেজের ছাত্র মজলিশের জেনারেল সেক্রেটারী আমির হোসেন কাকাও সদস্য ছিলেন। আমার আঁকা ছবি হাজী মহসিন ছবি পুরুস্কার পেয়েছিল। সে সময়ে আমি পেন্সিলে অনেক পোট্টেট এঁকেছিলাম। এর মধ্যে শরত চন্দ্রের ছবিটা বেশ নাম করেছিল। ছাত্র ইউনিয়নের সদস্য হওয়ার সময় জানতাম না এটা বাম রাজনীতির সাথে জড়িত। আমার স্যারেরা যাদের সাথে আমার সম্পর্ক খুব ঘনিষ্ঠ ছিল তারা সবাই ছিলেন অন্তর জগতে সাম্প্রদায়িক। আমি তা বুঝতামনা। বুঝার মতো বয়সও তেমন হয়নি। তাদের কারণেই আমি কালচারেল এক্টিভিটিতে জড়িত হয়েছি। তখন ছাত্র ইউনিয়ন বা ছাত্রলীগ তেমন বিভক্তি ছিল। সবাই বন্ধু বত্‍সল ছিলো। এখনতো ডা কুমড়ো সম্পর্ক।

পরবর্তীতে আমি ১৯৬৪ সালে যখন ফেনীতে যাই রাজনীতি করার জন্যে তখন ন্যাপের সাথে জড়িত হই। ভাগ হয়ে যাওয়ার পরেও আমি মাওলানা ভাসানীর সাথে থেকে যাই। ওটা ছিল বিশ্বব্যাপী কমিউনিজমের বিভক্তির কারণ। ১৯৬৯ সাল নাগাদ আমি ফেণীতে ছিলাম এবং কৃষক সমিতি করতাম। কৃষক আন্দোলনের জন্যেই আমি কৃষি সাপ্তাহিক ফসল প্রকাশ করি।

এক সময়ে আমার অনুভুতি হলো আমি রাজনীতির জন্যে উপযুক্ত নই। রাজনীতি অন্তর বাহির এক রকম নয়। আমি মানুষ হিসাবে ভিতর বাহির এক রকম। এটা নাকি রাজনীতির কৌশল। সাধারন মানুষ আমাকে খুবই ভালবাসতো। এতো অল্প বয়সে এতো জনপ্রিয়তা আর কারো ছিলনা। কিন্তু বাধা ছিল অনেক। স্থানীয় প্রশাসন ও প্রভাবশালী ব্যক্তিরা সবাই ছিল আমার বিরুদ্ধে।

ফলে আমাকে অনেক মামলা মোকদ্দমা মোকাবিলা করতে হয়েছে। ১৯৬৯ সালের দিকে আমি ঢাকায় ফিরে এসে দৈনিক পুর্বদেশের সিনিয়ার রিপোর্টার হিসাবে যোগ দিই।

হয়তো কোন একদিন

হয়তো কোন একদিন
সব দুরুত্ব ঘুচিয়ে দিয়ে
আমরা এক হয়ে যাই।

মেঘ ভোরের আলোকে
মিলে মিশে অনায়াসে
নতুন রূপে দেখতে পাই।।

সকল বাধা পেরিয়ে
দুকুল ভেংগে
হাজার মাইল বুকে নিয়ে
সাগরে
নদীকে হারাই।।

গুলশান। নভেম্বর ২৯, রাত সাড়ে দশটা।

বোবা অক্ষর

বোবা অক্ষর আর শব্দের সাথে
আমার জীবন যাপন
আমিও এখন বোবার মতো
বোবারাই এখন
আমার আপনজন।

আমি একাকি এখন এখানে
কোথাও কেউ নাই
মানুষের মতো
যারা আছে
তারা কোনজন।।

আবছা আলোতেও আমি
দিন আর রাত্রি বলো
আমি একলা দাঁড়িয়ে থাকি
কোথাও সময় নেই
নেই কোন দিনক্ষণ।।

গুলশান। নভেম্বর ২৯, সকাল বেলা
2

তোমাকে কিছু বলবো

তোমাকে কিছু বলবো
কি বলবো
হঠাৎ ভুলে গেছি
শত চেষ্টা করেও
মনে আসছে না।

আসো
কাছাকাছি বসো
হাতে হাত রাখো
হয়ত কথাটা
এখনি মনে আসবে
হয়ত আসবেনা।।

ওই দেখো
দূর আকাশ মুখো
তাল গাছটা
কি যেন ভাবছে
শুধু ভাবছে
তবু মনে আসছেনা।।

তোমাকে আমি
কিছু বলবো
কিছুতেই মনে
আসছেনা।।

গুলশান। নভেম্বর ৩০, বিকেল সাড়ে চারটা

রাত গভীর হলে

রাত গভীর হলে এখন আমি
গান শুনি বাতাসের ঠোঁটে
বাগানে ভ্রমর আসে আর
চারিদিকে সাদা ফুল ফোটে।

ফুলের কুড়িরা দল বেধে
জোনাকি রাতে
কোমর দুলিয়ে নাচে
প্রজাপতির সাথে।।

আমি তখনো গান শুনি
একাকী ঘরে বাইরে
ফেরারী মন আমার
কোথাও নাইরে।।

গুলশান। নভেম্বর ৩০, বেলা সা

রাত গভীর হলে

রাত গভীর হলে এখন আমি
গান শুনি বাতাসের ঠোঁটে
বাগানে ভ্রমর আসে আর
চারিদিকে সাদা ফুল ফোটে।

ফুলের কুড়িরা দল বেধে
জোনাকি রাতে
কোমর দুলিয়ে নাচে
প্রজাপতির সাথে।।

আমি তখনো গান শুনি
একাকী ঘরে বাইরে
ফেরারী মন আমার
কোথাও নাইরে।।

গুলশান। নভেম্বর ৩০, বেলা সা

  • Calendar

    • January 2019
      M T W T F S S
      « Dec    
       123456
      78910111213
      14151617181920
      21222324252627
      28293031  
  • Search