তুমি না চাইলেও

আমি তোমাকে ভালবাসি
তুমি না চাইলেও
আমি তোমার কাছে
যেতে চাই
তুমি ফিরিয়ে দিলেও
আমার আর কে আছে
এ জগত সংসারে।
আমিতো কিছুই চাইনা
এখানে ওখানে
স্বর্গ নরক
এসবে আমার কি কাজ
আমিতো যাবো আনন্দমেলায়
তোমার আলয়ে
তুমি না চাইলেও।
আমাকে দাস করো
মজনু করো
হয়তোবা কৃষ্ণ।
যেমন খুশী তেমন করো
তবুও একটা কিছু করো।

প্রেসক্লাবের পথে। অক্টোবর ২৮, দুপুর ১২টা।

দূর আকাশ থেকে নেমে এলে

ওই দূর আকাশ থেকে
নেমে এলে বাতাসে
আলো ঝলমলে
আমার কাছে আমার ঘরে
আনন্দে দুচোখ বেয়ে অশ্রু ঝরে।
আমার দুহাত ধরে
কাছে টেনে নিয়ে বললে
আসো বুকে আসো
আজ থেকে তুমি
পূর্ণ মানব হলে
আলো ঝলমলে
পূণ্যাত্বা হলে
আমি শুধু দেখছি
তোমাকে আকাশে
বাতাসের মতো বাতাসে।

গুলশান। সেপ্টেম্বর ১৬, সকাল বেলা

মানুষ ফেরাউন হয়

মানুষ অত্যাচার করে
মানুষ অত্যাচার সহ্য করেনা
মানুষ বিদ্রোহ করে
মানুষ ঘরে ঘরে।
মানুষ ফেরাউন হয়
মানুষ দেবতা হয়
ফেরাউনের পতন হয়
মানুষের হয়না।
মানুষ বিদ্রোহ করে
মানুষ বিপ্লব করে
বিজয় শুধু মানুষের
শুধু মানুষেরই বিজয়
শুধু মানুষই দেবতা হয়।

গুলশান। সেপ্টেম্বর ১৬। সকাল বেলা

সহজ সরল সোজা মানুষ

ভদ্রলোক একজন শান্ত সুবোধ
কারো সাথে নেই
কারো পাছেও নেই
সহজ সরল সোজা মানুষ
সকালে অফিসে যান
বিকালে বাসায় ফিরেন
ছুটির দিন বাজারে যান
সপ্তাহের বাজার করেন।
কোথায় কি ঘটছে
কোন খবর নাই
কারণ তিনি সহজ সরল
কারো সাথে নেই
কারো পাছেও নেই
হঠাৎ তার মেয়েটা নিখোঁজ
তিনি চুপচাপ
কি করার আছে
তিনি অফিসে যান
আর বাসায় ফিরেন।
একদিন ছেলেটা
গুম হয়ে গেল
তিনি চুপচাপ
কি করার আছে
যা ঘটার তাই ঘটেছে।
কারফিউ জারি হলো
জনরোষ দমন হলো
সকালে তার লাশটা
রাস্তায় পড়ে রইলো
লোকেরা বললো
ভদ্রলোক সহজ সরল
কারো সাথে নেই
কারো পাছেও নেই
কিন্তু বাঁচতে পারলেন না

গুলশান। আগষ্ট ৩১, সকাল বেলা।

স্বপ্নের দেশ

তুমি যে দেশের স্বপ্ন দেখেছো
সে দেশটি এখন কোথায়
তুমি কি তোমার স্বপ্নের দেশটিকে
দেখতে পাও অবিকল স্বপ্নের মতো?
‘এক সাগর রক্তের বিনিময়ে’
তুমিতো একটি ভুমি পেয়েছো
পাওনি তোমার স্বপ্নের দেশ।
প্রিয়তম আয়েশা
তোমার মুক্তিযুদ্ধ আর
স্বপ্নের কথা বলো
আমি আবার শুনবো
গোলাপী রংয়ের স্বপ্নের কথা
রুপালী মাছেভরা নদীর কথা
শস্যভরা সোনালী মাঠ আর
মাছরাঙা পাখির কথা
নকশী কাঁথার মাঠ
সোজন বাদিয়ার ঘাট।
বলো বন্ধু বলো
তোমার জোছনা রাতের কথা
জোনাক জ্বলা দিঘীর গল্পের কথা
আবার শুনবো
একাত্তুরের বংগবন্ধুর কথা
হাজার মাইল দূরে থেকে
বাঁশী বাজিয়ে গাণ শোনাতেন।
প্রিয়তম স্বাধীনতা এখন
জয়নুলের ছবির মতো
জয়নব রহিমার জোছনা ভরা
ঘরের দুয়ারে ঝুলছে।
আর পাশেই জব্বর আলি
বুক ভাংগা গাণের সুর তুলে গাইছে
‘আমার সোনার বাংলা
আমি তোমায় ভালবাসি’।
জব্বরের বাপ
আকব্বর আলি গুলি খেয়েছে একাত্তুরে
আর এইতো সেদিন
দুই হাজার পনেরোর জানুয়ারীতে
জব্বরের পোলাটা মিছিলে গিয়ে
আর ফিরে আসেনি।
জব্বরআলির বউটাকে
বিনা ভোটের গণতন্ত্রের বরপুত্র
চেয়ারম্যান প্রতিরাতে ডাকে
খেদমতের জন্যে।
‘পোলার জন্যে আর কত শোক করবি
সেতো এখন শহীদ
তুইতো শহীদের ’
‘জব্বরের বউ, প্রতিরাতে আসবি
চাল ডাল, রিলিফের ঘর,
কাপড় চোপড় সবি পাবি
গণতন্ত্র, সোনার রাষ্ট্র, জাতীয় সংগীত
সবইতো আনিছি তোদের জন্যে।
আয় আরও কাছে আয়
সোনার বাংলা কেমন
ভাল করে দেেখে নে
সোনার বাংলা গাণটা
ভাল করে শোণ।

নারীর গোপন রহস্য

নারীর কি প্রয়োজন ছিল নরের  লাগি

এ কথা শুধু তুমিই জানতে

তাই নারীর সৃষ্টি অনিবার্য হয়ে উঠলো

তোমার কাছে।

জোড়ার রহস্যও তুমি জানতে

যখন কেউ ছিলনা

কেউ জানতোনা

জগতের সব রহস্যই  তুমি লুকিয়ে

রেখেছিলে জোড়ার অধিক র্স্যের ভিতর।

নরের কি প্রয়োজন নারীর

নরের বহু আগেই তোমার জানা ছিল।

কিতাবে বা উপদেশে তুমি কোথাও বলোনি

রহস্যের গোপন সূত্র

তবুও নর সব কেমন করে শিখে নিয়েছিল

কেউ আজও জানেনা

শুধু তুমিই জানো

এসব শুধু তোমারই কুদরত।

একাকী একটি ঘর

রাত হলে ঘরটাতে বাতি জ্বলে

খুব ভোরে সূর্যের আলো পড়ে

দিন হলে কোন শব্দ নেই

কেউ জানেনা এ ঘরে আছে

আদৌ কেউ আছে কিনা।

বেশ ভালো এমন নাগরিক জীবন

পাশের ঘরে কি হয় কেউ জানেনা

বাইরে তালাও নেই

সকাল বিকাল বা সন্ধ্যার পরও

যায়না কেউ বাইরে

এমনি করেই দিন কাটে

রাত কাটে বাড়িটার।

শুধু গন্ধ বের হলেই একদিন

সবাই পুলিশকে খবর দেয়।

  • Calendar

    • February 2019
      M T W T F S S
      « Dec    
       123
      45678910
      11121314151617
      18192021222324
      25262728  
  • Search