এখন বাংগালীরা কি চায়?

সাতচল্লিশে ভারত ভাগ হয়েছে বড় শরিকের

ছোটলোকি আর  জোর করে হিস্যা দখলের জন্যে

একাত্তুরে আবারও বেআইনী হিস্যা দখলের মারামারি

আবার দেশ ভাগ হলো মাত্র দুই যুগের ভিতর।

সংসারে বনিবনা না হলে বাপের সম্পদ ভাগ করে নেয়

ওয়ারিশরা টুকরো টুকরো করে।

দুই হাজার পনেরোতে এসে হাজার বছরের

বাংগালীরা আসলেই কি চায় কেউ কি  বলতে পারে?

সাতচল্লিশে বাংলাতো দুই ভাগ হয়েছিল ধর্মের কারণে

কেউ মুর্তি পূজা করে কেউ করেনা

এ কারণেই কি বাংগালীরা ভাগ হয়ে গেল?

এখন বাংগালীরা নতুন করে কি চায়

ভারতীয় ছিল, পাকিস্তানী হলো, তারপরে বাংগালী

এখন তারা আসলেই কি চায়।

এখন আর একাত্তুর

মাগো, এখনতো জানুয়ারী দুই হাজার পনেরো
সারা দেশ জ্বলছে আগুনে বোমায়
মরছে মানুষ জেলায় জেলায়
বলোতো মা, তোমাদের একাত্তুুরের কথা
কেমন জ্বলেছে ঘর দুয়ার
হাট বাজার বন্দরে বন্দর
কেমন মরেছে মানুষ দেশের লাগি।
তুমিতো বলেছিলে বাংগালীরা
এক হয়েছিলো স্বাধীনতার জন্যে
তিন লাখ বা তিন মিলিয়ন মানুষ মরেছে
ঘরে ঘরে টেকনাফ থেকে তেতুলিয়া।
দেশের বয়সতো তেমন কিছু হয়নি
হঠাত্‍ বাংগালীদের এমন কি হলো
এক বাংগালী আরেক বাংগালীকে মারছে
এখনতো পাঞ্জাবি পাঠান বালুচ আর সিন্ধী
কোথাও নেই
রাজাও বাংগালী প্রজাও বাংগালী
তাহলে বিরোধ কোথায়
কেন মানুষ মরছে আর মারছে।

পাকিস্তান ত্যাগ করেছে ষোলয়ানা

বাংগালী হবার জন্যে

সোনার বাংলা বানাবার জন্যে

এখন নিজেরাই সোনার বাংলায়

আগুন দিচ্ছে, আগুনে নিজের মরছে

প্রিয়তম বন্ধু দিল্লী চেয়েছে

আমরা ষোলয়ানা বাংগালী হই

মুসলমানিত্বের সাথে নাকি

পাকিস্তানের গন্ধ আছে

দ্বিজাতি তত্বের গন্ধ আছে।

সোনার বাংলায় নাকি মুসলমান

সন্ত্রাসী আর জংগী আছে

আল কায়েদা আর আইএস

ঘুরে বেড়াচ্ছে চারিদিকে

জংগীদের নির্মূল করার জন্যে

আমেরিকা আর সউদী বন্দুক

তাক করে আছে।

পাকিস্তানী সিপাহীরা বুকে গুলি করে

আরেক মুসলমানকে মেরেছে

এখন নাকি বাংগালী সিপাহীরা

বুকে গুলি করে মারবে আপন ভাইকে

তুমি কি কিছু জানো মা

সোনার বাংলা পুড়ছে কেন?

 

 

 

 

 

স্বপ্নের দেশ

তুমি যে দেশের স্বপ্ন দেখেছো
সে দেশটি এখন কোথায়
তুমি কি তোমার স্বপ্নের দেশটিকে
দেখতে পাও অবিকল স্বপ্নের মতো?
‘এক সাগর রক্তের বিনিময়ে’
তুমিতো একটি ভুমি পেয়েছো
পাওনি তোমার স্বপ্নের দেশ।
প্রিয়তম আয়েশা
তোমার মুক্তিযুদ্ধ আর
স্বপ্নের কথা বলো
আমি আবার শুনবো
গোলাপী রংয়ের স্বপ্নের কথা
রুপালী মাছেভরা নদীর কথা
শস্যভরা সোনালী মাঠ আর
মাছরাঙা পাখির কথা
নকশী কাঁথার মাঠ
সোজন বাদিয়ার ঘাট।
বলো বন্ধু বলো
তোমার জোছনা রাতের কথা
জোনাক জ্বলা দিঘীর গল্পের কথা
আবার শুনবো
একাত্তুরের বংগবন্ধুর কথা
হাজার মাইল দূরে থেকে
বাঁশী বাজিয়ে গাণ শোনাতেন।
প্রিয়তম স্বাধীনতা এখন
জয়নুলের ছবির মতো
জয়নব রহিমার জোছনা ভরা
ঘরের দুয়ারে ঝুলছে।
আর পাশেই জব্বর আলি
বুক ভাংগা গাণের সুর তুলে গাইছে
‘আমার সোনার বাংলা
আমি তোমায় ভালবাসি’।
জব্বরের বাপ
আকব্বর আলি গুলি খেয়েছে একাত্তুরে
আর এইতো সেদিন
দুই হাজার পনেরোর জানুয়ারীতে
জব্বরের পোলাটা মিছিলে গিয়ে
আর ফিরে আসেনি।
জব্বরআলির বউটাকে
বিনা ভোটের গণতন্ত্রের বরপুত্র
চেয়ারম্যান প্রতিরাতে ডাকে
খেদমতের জন্যে।
‘পোলার জন্যে আর কত শোক করবি
সেতো এখন শহীদ
তুইতো শহীদের ’
‘জব্বরের বউ, প্রতিরাতে আসবি
চাল ডাল, রিলিফের ঘর,
কাপড় চোপড় সবি পাবি
গণতন্ত্র, সোনার রাষ্ট্র, জাতীয় সংগীত
সবইতো আনিছি তোদের জন্যে।
আয় আরও কাছে আয়
সোনার বাংলা কেমন
ভাল করে দেেখে নে
সোনার বাংলা গাণটা
ভাল করে শোণ।

স্থানান্তরিত হবো

আমিতো সদা জাগ্রত

তোমার ডাকে সাড়া দিব বলে

আমিতো চেয়েছি নীরবে নিরজনে

মাটির দেহটা ছেড়ে স্থানান্তরিত হবো।

আমি জানি শুধু এইটুকু দয়া

তুমি করবে আমায়

আমিযে তোমায় ভালবাসি

তুমি হাকিম আর আমি আসামী নই।

দৃশ্য অদৃশ্যের খেলা

অদৃশ্য থেকে দৃশ্যমান হওয়া
দৃশ্য থেকে অদৃশ্য হয়ে যাওয়া
জীবন চক্রে বাঁধা এই আমি
আমিই আদম আর আমিই হাওয়া।

জানা আমি আর অজানা আমি

জানা আমি  আর অজানা আমি     /   এরশাদ মজুমদার

 

 

জানা আমি আর অজানা আমি

আমার ভিতরে যে আমি আছে,

যে দিনরাত আমার সাথে কথা বলে

 

তাকে দেখিনি আমি।

সে বলে আমার সাথে কথা বলো,

আমাকে ভালবাসো,

আমি তোমাকে ভালবাসবো।

আমি তোমাকে আয়না দেবো আমাকে দেখার জন্যে।

আমি তোমাকে শুনবো,

তুমি যেন আমাকে শুনতে পারো।

আমি তেমাকে ভাষা দেবো,

তুমি যেন আমার ভাষা বুঝতে পারো।
তুমি যখন আমাকে বুঝতে পারবে,

আমি তোমাকে বুঝতে পারবো।

তুমি নিজেকে প্রশ্ন করো,

তুমি কে আর আমি কে?

ভাল করে ভাবো, তুমি কাকে ভালবাসো?

অদৃশ্য তোমাকে, না দৃশ্যমান তোমাকে।

তুমি কি দৃশ্যমান জগতের প্রেমে পড়ে গেছো?

তাহলে তুমি অদৃশ্য জগত ও তোমাকে কিভাবে দেখবে?
তুমি কি অদৃশ্য সুন্দরকে ফেলে দৃশ্যমান সুন্দরের সাধনা করছো?

তাহলে সুন্দরকে কখনই দেখতে পাবেনা।

আমি জানি তুমি তোমার রূহকে বেশী ভাল না বেসে দেহকে ভালবাসছো।

এভাবে তুমি কখনই নিজেকে চিনতে পারবেনা।

  • দিনপন্জী

  • খোঁজ করুন