সজল

সজল / এরশাদ মজুমদার

জানিনা কেমন করে সব হয়ে গেল
হয়ত এমন করেই সব হয় গরীব হলে
আমি সজল
থাকি বস্তিতে
বয়স ছয়
স্কুলে যাই
মা বাসায় কাজ করে
বাবা রিকশা চালায়।
বাবা বলে আমরা গরীব
মা ও বলে তাই
ভাল করে পড়ালেখা কর
তুই বড় হলে আমাদের
আর কোন দু:খ থাকবেনা
আমিও বলেছি
মা আমি
তোমাদের সব দু:খ গুছিয়ে দেবো
বাবার আর রিকশা চালাবেনা
তুমি আর বাসায় কাজ করবেনা।
বস্তির কাকু বললো
চল্ সজল
যদি চকলেট খাবি
চল আজ
আমরা রিকশা চড়ে হাওয়া খাবো
আমিও বললাম
চলো কাকু যাই
খুব ইচ্ছা করে অমন করে বেড়াই।
চকলেট খেতে খেতে
কাকু নিয়ে গেল
ডাক্তারখানায়
ডাক্তার সাহেব আদর করলেন
তারপর আর কিছু মনে নাই
হুঁশ এলো
ঘুম পেলো
কাকু বস্তিতে নিয়ে এলো
হাতে গুঁজে কিছু টাকা দিলো।
মা’র কাছে ফিরে এলে
মা বললো
কোথায় ছিলি সারাদিন
মা হাওয়া খেয়েছি
আর এই টাকা পেয়েছি
তোর শরীরে এতো রক্ত কিসের বাপ
জানিনা মা
কিছু মনে নেই
শুধু মনে আছে
হাওয়া খাওয়ার কথা
রিকশার কথা
চকলেটের কথা
ডাক্তার সাহেবের কথা
মা আমার ঘুম পাচ্ছে
খুব বেশী ঘুম পাচ্ছে
সজল আর বড় হতে পারেনি
বস্তির কাকু
তার কিডনী বেচে দিয়ে
সজলের বড় হওয়াটা বন্ধ করে দিয়েছে
সেদিন রাতেই
সজলের
মায়ের বাবার
স্বপ্নটা মরে গেছে

তুমি আর আমি

তুমি আর আমি / এরশাদ মজুমদার

তুমি এলে
তবে কেন গেলে চলে
তুমি আবার আসো
বার বার আসো
তুমিই স্থিতি আমার
তুমিই অস্তিত্ব আমার
তুমি ছিলে বলেই আমি আছি
তুমি আছো বলেই আমি আছি
তুমি থাকবে বলেই আমি আছি
তুমি এলে
তবে কেন গেলে চলে।
তুমি রমনী হও
আমি পুরুষ হবো
তুমি প্রেমিকা হও
আমি প্রেমিক হবো
তুমি ধরণী হও
আমি ধারণ করবো
তুমি মাতা হও
আমি সন্তান হবো
তুমি ঘরণী হও
আমি ঘরামী হবো
আমাকে তুমি ধারণ করো
আমি তোমাকে ধারণ করবো
তুমি স্রষ্টা হও
আমি সৃষ্টি হবো
আমি স্রষ্টা হলে
তুমি সৃষ্টি হয়ো
এ সৃষ্টি
এ মহাসৃষ্টি
বিলীন হোক
তোমাতে আমাতে।

বৈশাখের কবিতা

বৈশাখের কবিতা / এরশাদ মজুমদার

১।
কাঠফাটা
ছাতিফাটা
ফাটাফাটি
লাঠালাঠি।
২।
পীচ গলে
পিঠ জ্বলে
রোদ জ্বলে
পেট জ্বলে।
৩।
জ্বলে সংসার
উঠে ঝংকার
দেয় হুংকার
শক্তি যার।
৪।
রিকশাঅলা
ঠেলাঅলা
ঝোলাঅলা
ফালা ফালা।
৫।
মুখে তালা
পেটে জ্বালা
আগুন জ্বালা
খোলরে তালা।
৬।
আর কতকাল
এমন অকাল
সবই মাকাল
রাজা মাতাল।
৭।
আয়রে সবাই
করবি জবাই
হাতে ল’ভাই
অস্ত্র সবাই।
৮।
আগুন জ্বলে
জলে স্থলে
বুকে জ্বলে
মুখে জ্বলে।
৯।
জ্বালা আগুন
জ্বলুক ফাগুন
জ্বালা আগুন
লক্ষ দ্বিগুণ ।
১০।
মাঠ জ্বলুক
ঘাট জ্বলুক
শহর জ্বলুক
বহর জ্বলুক
১১।
জ্বলুক গদি
জ্বলুক নদী
জ্বলুক রাজা
তাজা তাজা।

বৈশাখের কবিতা ১৪২১ সাল

বৈশাখের কবিতা / এরশাদ মজুমদার

যাদের বেশী আছে বেশী থাক
যাদের উপচে পড়ে, পড়ুক উপচে
যারা আরও চায়
তাদের আরও পেতে দিন
আমি উল্লাপাড়ার উল্লু মিয়া
কারো বাড়া ভাতে ছাই মাখিনা
শুধু চাই নিজের হক আর হিস্যাটা
একাত্তুরে শেখের বেটায় কইছিলো
আমার লগর থাক সব পাবি
খোদার কসম
মাথায় হাত রাইখা কইতাছি
শেখের লগে ছিলাম
যুদ্ধে গেছি
যদিও শেখ চইলা গেলো
সিপাহিগো লগে।
আমরাতো মায়ের ভুমিটারে
ফালাইয়া কই যামু
হানাদার মারার লাইগা
বন্দুক কাঁধে লাইয়া ঘুইরা বেড়াইছি
সারা বাংলাদেশ।
আঠারের উল্লু আমি এখন
যৌবন হারাইয়া ষাইতের উপরে
গতরে শক্তি নাই
লাংগল ঠেলার জোর নাই
তালগাছঅলা দিঘীর পাড়ে
চিত্‍ হয়ে শুয়ে থাকি সকাল সন্ধ্যা
আর ভাবি
আহ কী সন্দর
সোনার বাংলাদেশ
কী সন্দর রাজধানী ঢাকা
দুই বেলা খাওন ছাড়া
তেমন কিছু চাইনি এ জীবনে
যাদের বেশী আছে বেশী থাক
যাদের উপচে পড়ে পড়ুক উপচে
যারা স্বাধীনতা বেইচা খায় খাক
যারা যুদ্ধ বেইচা খায় খাক
যারা পতাকা বেইচা খায় খাক
আমি উল্লু শুধুই চাষী
চাষ কইরা খাই
ফসলের দাম কখনই পাই নাই
এখন জমি জিরাত কিছুই নাই
সব খাইছে স্বাধীনতায়
এখন আমি আছি
আর গতর আছে
সাথে থাকে
আমার স্বাধীনতা
আর থাকে লাল সবুজের পতাকা।

Haiku( English 7)

1.

A bird is singing

What a state

Can do ?

2.

State is for

Humanbeing

Not for animals.

3.

Oppressive states are

Anti humanbeing

Anti God.

১৪২১ সাল

১৪২১ সাল

সখিনার বাপ
কই যাও ভোরে ভোরে
কামে যাই
রোদ উঠলে ঘামে ঘামে
কাহিল হইয়ে যাই
আজ না নতুন দিন নতুন বছর
হ হেতো আছে
আমাগো লাইগা না
আমরাতো কামলা
কাম কইরা খাই
গতর বেইচ্চা খাই
আমাগো লাইগ্যা
কিসের নতুন দিন
কিসের নতুন বছর
খোদার সবদিনই
কামের লাইগা।
মাইঝ বেলাতেই কাম
সাইরা নিমু
যামু হাটে
মাঁইয়াডার লাইগা
আলতা আর চুড়ি কিনমু
গরীবের আবার শখ
অত হাউসের দরকার নাই
চাল ডাল আইনবা
আর বাতাসা আইনবা।
তয় কি খাইয়া যাইবা
এক বদনা পানি
আর এক মুঠ চাল দে।
ডাল চাল মিশা
খিচুড়ী বানাইবি
তিন জনে পেট পুইরা খামু।

১৪২১ সাল

নববর্ষ ১৪২১

কোথায় নব আর কোথায় বর্ষ
দিন বা বর্ষপঞ্জীর
দিন তারিখ সন বদলালেই কি
নববর্ষ হয়।
১৪২০ গেলো আর
১৪২১ এলো
এতে কার কি হলো
আর কি গেলো
রাজধানীতে বাঘ ভাল্লুকের
মিছিল হলো
বাংলার কৃষ্টি আর
সংস্কৃতির নামে
রমনার বটমূলে
গাণের আসর বসলো
রবিবাবুর কিছু গাণ
গাওয়া হলো
রেস্তোঁরাতে পান্তা ইলিশ
আর সানকীর মেলা বসলো।
কোথাও বা কাপরে বাঁধানো
লাল রংয়ের হালখাতা হলো
কোথাও মন্ত্রী শান্ত্রীরা
মাইকে দেশপ্রেমের
ঢোল বাজালো
কোথাও টিভি চ্যানেল গুলো
সেলফোন কোম্পানীর অঢেল
টাকায় প্রোগ্রাম কিনে নিলো।
কার কি আসে যায়
যে সেদিনও ভিক্ষের জন্যে
রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকে
রিকশাঅলা রাস্তায় নেমেছে
বস্তির ভাড়ার টাকার জন্যে
না মাস্তান বলেছে
তার সোমত্ত মেয়েটাকে
তুলে নিয়ে যাবে।
আমি হয়ত অন্ধ
তাই আমি নতুন দিনটাকে
দেখতে পাইনা
দেখতে পাইনা
রাজধানীর বুটিক দোকানে ভিড়
পাঁচতারা হোটেলে
পান্তাভাতের মেলা
কর্পোরেট হাউজের
সিইও সাহেবের
বিবি বাচ্চারা
লাখ টাকার ইলিশ খাচ্ছে
আমি দেখতে পাচ্ছি
গত বছর মিছিলে গিয়ে
ছমিরুদ্দি আর ঘরে ফিরেনি
তার মেয়েটাকে তুলে নিয়ে গেছে
দলের সোনার ছেলেরা
ছমিরুদ্দির বউ এখন
চেয়ারম্যানের শরীরের
ব্যথা কমায়।
আমেনার মেয়েটা
রাজধানী গিয়েছিল
পোষাকের কর্মী হয়ে
সেও নিখোজ আজ
সাত মাস হলো
শরীফার মেয়ে গুলশানে
বেগম সাহেবের পা টিপে
রাত হলে
ছোট সাহেবের খেদমত করে।
আমি সত্যিই
বধির বোবা ও অন্ধ
জিডিপির খবর রাখিনা
ঘরে ঘরে নাকি
বিদ্যুতের আলো চমকাচ্ছে
বাংলাদেশ ডিজিটাল
হয়ে যাচ্ছে
গুলশানে তিরিশ কোটি টাকা
জমির কাঠা
টাওয়ার গুলো আকাশ ফুড়ে
অন্যগ্রহে চলে যাচ্ছে
এসব খবর আমি রাখিনা
আমাকে মারুন
গালি দেন
শালা শুয়োরবাচ্চা বলে
এমন অন্ধের জন্যে
এসব মধুর গালিই ভাল।
এসো হে বৈশাখ
বস্তি গুলোকে উড়িয়ে নাও
বাংলার গ্রামে গ্রামে
কাল বৈশাখীর
ঝড়ের তান্ডব খেলে যাও
তুমি জলোচ্ছাসে
সব চুবিয়ে দাও
তবুও আমরা আমেনা সখিনা
শরীফা ছমিরুদ্দিরা গাইবো
প্রাণভরে
‘আমার সোনার বাংলা
আমি তোমায় ভালবাসি’।

  • দিনপন্জী

  • খোঁজ করুন