এত রক্ত কেন সোনার বাংলায়

মা তুমি বলেছিলে
খোকা তুই বড় হয়ে আমায় কি দিবি
আর আমি না বুঝেই বলেছিলাম
আমি আর কবে বড় হবো
আমিতো এখন
সব পড়তে পারি
সব লিখতে পারি।
এবার তুমি বলো মা
আমি কখন পুরো বড় হবো
বাবার মতো হলে?
বড় হলে তুমি যা চাইবে
তাই এনে দিবো।
পুরো বড় হবার আগেই
একদিন মা বললো
খোকারে এবার তোকে
জন্মভুমির ইজ্জত রক্ষা করতে হবে
না হলে এদেশটা
অন্যেরা খাবলে খাবে
মাতৃভুমির ইজ্জতইতো মায়ের ইজ্জত
জীবন মরণ মান ইজ্জত
সবই থাকবে যদি দেশকে স্বাধীন
করতে পারিস।
সেই একাত্তুরের কথা খুবই মনে পড়ে মা
তোমার কথা ভাবলেই
আজ তুমি নেই
মনের দু:খের কথা বলার
লোকও নেই আমার পাশে
তুমি যেখানেই থাকো মা
তুমি কি দেখতে পাচ্ছো
তোমার আমার
সোনার বাংলার হাল হাকিকত
মাত্র তেতাল্লিশ বছরেই
কেমন যেন হয়ে গেছে দেশটা
চারিদিকে হানাহানি
রক্তের হোলি খেলা
আবার গোলাগুলি খুন খারাবি
চেনা মুখ গুলোকে বার বার দেখছি
কই কোথাওতো
ভিন দেশী কাউকে দেখতে পাইনা
তুমি কি কাউকে দেখতে পাচ্ছো
হয়ত তুমি অদৃশ্যকে দেখতে পাও
কারা আজ সোনার বাংলার
সবুজ রং মুছে দিয়ে শুধু লাল করতে চায়
ওরা কারা মা
বল বল মা
স্বপ্নে এসে বলো
কারা এমন দেশটাকে
ছারখার করে দিচ্ছে
ওরা কি চায় মা?
খোকা,ওরা তোদের ঘরোয়া বিবাদকে
উসকে দিতে চায়
ওরা জানে তোদের কোন বুদ্ধি নেই
তোরা কথায় কথায়
নিজের ঘর নিজরাই ভেংগে দিতে চাস
শত্রুকে মিত্র বলে বুকে টেনে নিস
নিজের ভাইয়ের বুকে ছুরি চালাস
এমন চলতে থাকলে খোকা
তোদের প্রাণের সবুজ দেশ
লাল সবুজের পতাকটা আর থাকবেনা
শত্রু তাদের রসুই ঘরে ঢুকে পড়েছে
শত্রুর হাতে পতাকা তুলে দিয়ে
তোরা কন্ঠে কন্ঠ মিলিয়ে গাইছিস
‘আমার সোনার বাংলা
আমি তোমায় ভালবাসি’

Advertisements