কোন রূপকথা লিখতে পারবোনা মা

খুবই আশা ছিল মাগো
তোমায় নিয়ে একটি রূপকথা লিখবো
যা পড়বে সবাই দেশে ও বিদেশ
এমন সোনার দেশ
আর কোথাও নেই
এখানে সেখানে এই ভুবনে।
ঠাকুমার ঝুলিতেও এমন রূপকথা
কখনও ছিলনা
প্রাচীনকালেও নাকি
এই দেশটা ছিল পরীর দেশ
পরীরা এসে ছেলেদের নিয়ে যেতো।
খুবই আশা ছিল মাগো
পরীর গল্প লিখবো
আগামীদিনে ঘুম পাড়ানী গাণে
দাদীরা শোনাবে পরীর গল্প
না মা, সে গল্প আর লিখতে পারবেনা
তোমার এই ছেলে।
সবুজ শ্যামল দেশটায় আজ
ডাইনী আর হায়েনারা
খিল খিল করে হাসছে
রাত হলে তারা নৃত্য করে
রাতভর গ্রাম থেকে গ্রামে
ওই দূর গ্রাম থেকে ভেসে আসে
কোলহারা মায়ের কান্না
ভাই হারা বোনের কান্না
বেশ দূরে আরও দূরে একটি গ্রামে
একটি পিদীম জ্বলছে।
সদ্য বিবাহিতা সুফিয়া বসে আছে
তার জীবনের ধন স্বামীর আশায়
রাত গভীর হলে
ডাইনী দিলো ডাক
আয় বেরিয়ে আয়
না হলে ঘাড় মটকে খাব
কতদিন খাইনা
জোয়ান মরদের মাথা
আয় দেখে যা
আমায় দেখে যা
নতুন বউ ঘরে একলা রেখে
সমির মিয়া বাইরে যায়
আর ফিরে আসেনি।
সুফিয়া মায়ের কাছে শুনছে
একাত্তুরের কথা
এমন করেই হাজারো সুফিয়া
বেআব্রু হয়েছে
এমন করেই জোয়ান মরদকে
তুলে নিয়ে গেছে
হানাদার বাহিনী
মা বলতো
ওরা ছিল মুসলমান নামের কলংক
মা বলতো
জালেমের কোন ধর্ম নেই
নেই কোন জাতপাত।
এখনতো দুই হাজার তেরো সাল
কোথাও কোনো হানাদার নেই
তাহলে মা কে তুলে নিয়ে গেলো
আমার জোয়ান সোমত্ত স্বামীকে
পরীর গল্প
রূপকথার গল্প
কিছুই আর লিখতে পারলাম না মা
শত শত লাশের মিছিল চলছে
রাতদিন শহরে বন্দরে
নগর মহানগরে
বলো মা
আমি কেমন করে লিখবো
হাজারো সুফিয়ার কথা
কেমন করে লিখবো
হাজারো শহীদের কথা
সবুজ ফসলের মাঠ আজ
লালে লাল হয়ে গেছে
লাল নদী সাগরে বয়ে চলেছে
আমাদের সকল দু:খ কান্না
দখিনের সাগরও আজ লাল
মাগো,আমি লাল নরোম
মাটির কথা বলছি
সুফিয়ার চোখের পানির কথা বলছি
আম্বিয়ার আহাজারির কথা বলছি
যোলকোটি মানুষের কান্নার আওয়াজ কি
তুমি শুনতে মা
শত চেষ্ট করলেও আমি মা
এখন পরীর গল্প
রূপকথার গল্প লিখতে পারবোনা
যদি এই সোনার দেশ
আবার সবুজ হয়
আগামী দিনের কোন গল্পকার
তোমাকে পরীর গল্প শোনাবে
আমায় ক্ষমা করো
এখন চারিদিকে শুধু রক্ত
কোথাও কোন কালি নেই
নেই কোন কাগজ কলম।