দেশ প্রেমিকরাই সকল শাসকের শত্রু

সন্ধ্যার পর থেকেই রাজধানী থমথমে হয়ে গেলো
আকাশে মেঘ জমেছে
মনে হলো কোথাও বৃষ্টি হচ্ছে
বা এখনি কোথাও বৃষ্ট নামবে
মনে হলো কোথাও কোন দেশে
কোটি মানুষের চোখে বেদনার ঢল নেমেছে
রাজধানীতে কোন কারফিউ ছিলনা
তবুও মানুষ সব ঘরে ফিরে গেছে
জীবনের নিরাপত্তার কথা ভেবে
শাসকের সাঁজোয়া গাড়ি গুলো টহল দিচ্ছে
শাসকের বরকান্দাজেরা অস্ত্র তাক করে
তাদের সদা তৈরির কথা ঘোষণা দিচ্ছে।
রেডিও টিভিতে ঝাঁকে ঝাঁকে খবর আসছে
কোন এক ব্যক্তির ফাঁসী হয়েছে কিছুক্ষণ আগে
কেউ বলছেন একজন মানবতার শত্রু
ফাঁসী কার্যকর হয়েছে
কেউ বলছেন একজন খোদা প্রেমিক
দেশ প্রেমিকের শাস্তি হয়েছে রশিতে ঝুলিয়ে।
যেমন ইংরেজেরা ফাঁসীতে ঝুলিয়েছে
দেশ প্রেমিক শের আলী খানকে
অপরাধ ছিল খান একজন শাসককে হত্যা করেছ
ইমামে আজম আবু হানিফাকে
হত্যা করেছে একজন খলিফা
অপরাধ ছিল তিনি একজন জ্ঞানী
তিনি সত্য এবং ন্যায়ের সৈনিক ছিলেন
তিনি একজন খাঁটি খোদা প্রেমিক ছিলেন
আড়াই হাজার বছর পার হয়ে গেছে
আমরা এখনও সক্রেটিসের কথা ভুলিনি
এমন মহামানবকে বিষ দিয়ে
হত্যা করেছে শাসক
অপরাধ ছিল তিনি জ্ঞানী ছিলেন
তিনি সত্যের আলো ছড়িয়ে দিতেন
মানুষের ভিতর
কিন্তু শাসকে তা পছন্দ হয়নি
তাই সত্যকে তারা গলা টিপে হত্যা করেছ
আসলে কি সত্য কি কখনও মারা যায় ।
যুগ যুগ ধরে দেশে দেশ
খোদা প্রেমিক দেশপ্রেমিকদের
শাসকেরা হত্যা করে
সকল দেশেই শাসকেরা
সবচেয়ে বেশী ভয় পায় দেশ প্রেমিকদের
দেশ প্রেমিকদের হত্যা করাই শাসকের কাজ।
নবী আউলিয়ারা ও
নির্যাতিত হয়েছেন ,নিহত হয়েছেন
শাসক ও সমাজের হাতে
এদের হাত থেকে রেহাই পায়নি
কোন দার্শনিক ও বিজ্ঞানীরা
রাজা মহারাজা বা বাদশাহ সম্রাটরাতো
রাজ্যের জন্যে যুদ্ধ করে মারা যান
অথবা ঘাতক বা আপনজন তাদের হত্যা করে
যেমন বংগবন্ধু ইন্দিরা গান্ধী জিয়া
আর জুলফি নিহত হয়েছে
এমন কি গান্ধীজীও নিহত হয়েছেন
নিজের বিশ্বাসের জন্যে।
স্বাধীন বাংলার শেষ সূর্য নবাব সিরাজও
জীবন দিয়েছে দেশের জন্যে
তখনও একদল লোক আনন্দ করেছে
মিছিল করেছে,থুতু দিয়েছে সিরাজের গায়ে
এখনও শাসক প্রেমিকেরা
মিছিল করে দেশ প্রেমিকের মৃত্যুতে
পাইক বরকন্দাজের পাহারায়
নিরাপত্তা খোয়াড়ে
শাসকের জয়গাণ করে
এসবতো নতুন কিছু নয়
দেশে দেশে গাঁয়ে গাঁয়ে ঘরে ঘরে
নগরে বন্দরে বস্তিতে বস্তিতে মানুষ
মরছে শাসকের গুলিতে
অপরাধ তারা নাকি দেশ প্রেমিক নয়
তারা নাকি এজিদের জিকির করেনা
হামদ পড়েনা খলিফার প্রশংসায়
তারাতো ছিলো নবীজীর পরম প্রিয় নাতি
কই এজিদতো রেহাই দেয়নি
ফাতিমার প্রাণের কলিজাকে
হে মেঘ তোমরা চোখের জলে বুক ভাসিওনা
বরং সাক্ষী হয়ে থাকো
জালেমেরা কিভাবে জগতে
খোদা প্রেমিক
দেশ প্রেমিকদের হত্যা করে
হে মেঘ, তোমরা সাক্ষী দিও
জগতের সকল অন্ধকার
আর জুলুমাতের বিরুদ্ধে
হে ফেরেশতারা তোমরাও সাক্ষী দিও
ফরিয়াদ করো মজলুমের পক্ষে
তোমরাতো জানোই
খোদার আরশ কেঁপে উঠে
মজলুমের আহাজারিতে।

আমি অভিশাপ দিচ্ছি

আমি অভিশাপ দিচ্ছি সেই মুখোশ পরা বন্ধুকে
যে একাত্তুরে আমাদের সাহায্য করেছিল
তার শত্রুকে পরাজিত করার জন্যে।
আমি অভিশাপ দিচ্ছি সেই বন্ধুকে
যার মুখোশ খুলে পড়েছে দুই হাজার তেরোতে
আমি আমার সমস্ত শক্তি দিয়ে ঘৃণা প্রকাশ করছি
তাদের জন্যে যারা লাল সবুজের পাতাকে
চিরতরে নামিয়ে দিতে চায়।
আমি অভিশাপ দিচ্ছি
মুখোশ পরা বন্ধুর বেশে নতুন শত্রুকে
যে একাত্তুরে নিজের শত্রুকে খতম করার জন্যে
আমাদের পরম মিত্র সেজেছিল
তেতাল্লিশ বছরেও আমরা চিনতে পারিনি
আমরা বাপদাদাদের সাবধান বাণীও
ভুলেছিলাম এতকাল
এখনও হাজারও বিভ্রান্তি আমাদের ভিতর
এখনও চিনতে পারিনা
এমন শত্রুকে যে শুধুই বন্ধু সেজে থাকে
মহামিত্রের মতো কথা বলে।
আমি অভিশাপ দিচ্ছি
লাল সবুজের শত্রুকে
যে শত্রু আমাদের পতাকাটাকে
প্রায় গিলে ফেলেছে
এমন চলতে থাকলে
বন্ধু বেশের চিরশত্রু
আমার আর যোল কোটি মানুষের
মানচিত্রটাকে হরিণ শাবকের মতো গিলে খাবে।
হে বাংলার যোল কোটি মানুষ
তোমরা চোখ কান মেলো
মুক ও বধির হয়োনা
সজাগ হয়ে চারিদিকে চেয়ে দেখো
কে শত্রু আর কে মিত্র
কে তামার পতাকার শত্রু
কে তোমার জাতিসত্তার শত্রু
কে তোমার মানচিত্রের শত্রু
যদি চিনতে না পারা
তুমি পরাধীন হবে চিরতরে
বলো সবাই আকাশে বাতাসে
কঠিন বজ্রকণ্ঠে আওয়াজ তুলে
আমরা তোমাকে অভিশাপ দিচ্ছি
এবার আমরা তোমার বিষদাঁত ভেংগে দেবো।
বলো সবাই বজ্রকণ্ঠে
বাংলার মীরজাফরেরা আর রেহাই পাবেনা
আমরা চিনতে পেরেছি
আমাদের শত্রু কে
আর মিত্র কে
আমরা তোমাদের অভিশাপ দিচ্ছি
আমরা বাংলাদেশের শত্রুদের
অভিশাপ দিচ্ছি।

আমাকে পশুর মতো রেখোনা

আমি তোমাকে ভাবতে চাই
আমাকে ভাবার ক্ষমতা দাও
এখন আমার সে ক্ষমতা নাই
তুমি আমার ভাবনার চেয়ে অনেক বড়।
আমি তোমাকে শুনতে চাই
শোনার মতো তেমন ক্ষমতা আমার নেই
যতই কান পেতে থাকি
আমি জানি তুমিই একমাত্র
শুধুই একমাত্র শ্রেষ্ঠ শ্রোতা
আমার সব কথা সব ভাবনা
তুমি শুনতে পাও
বুঝতে পারো
আমি কেন তোমায় শুনতে পাইনা
আমার শুনার ক্ষমতা বাড়িয়ে দাও।
আমি তোমাকে দেখতে চাই
আমি আমার এ চোখে
তোমায় দেখতে পায়না
আমার হৃদয়ের চোখ খুলে দাও
আমি যেন তোমায় দেখতে পাই
আমি তোমায় দেখলে
তোমার কোন ক্ষতি নেই
আমি আনন্দিত হই
আমার জনম স্বার্থক হয়
তুমি নিজেই বলেছো
মানুষের সুরত থাকলেই
সব মানুষ মানুষ হয়না
চোখ থাকলেও তারা অন্ধ
কান থাকলেও তারা বধির
হৃদয় থাকলেও তারা অনুভব করেনা
তারা মানুষ নয়
পশুর চেয়েও অধম।
আমাকে কি তুমি তেমন করে রেখেছো
দয়া করে আমাকে তেমন করোনা
আমাকে তোমায় ভাবার ক্ষমতা দাও
অনুভব করার ক্ষমতা দাও
তুমি আমার কাছে দৃশ্যমান হও
না হয় আমায় তুমি অদৃশ্য করে দাও
তুমিই যদি না থাকো আমার পাশে
আমার এ থাকার কোন মানে হয়না
তুমিতো মহা দয়বান
শুধু এটুকু দয়া আমায় করো।