পতাকা নামাবার মুক্তিযুদ্ধ

জানিনা কখন কি হবে
আমার বা দেশের
দেশের বয়স তেতাল্লিশ
আমার তিয়াত্তুর
জানিনা কখন কি হবে
পাঁচচল্লিশে যুদ্ধ চলে মায়ের বুকে
মা আনচল দিয়ে ঢেকে রাখে আমায়
বুকের ভিতর
সাদা বেনিয়ারা চলে গেলে
মা বললো
এবার বই হাতে নেরে খোকা
বসাকের বাল্যশিক্ষা শেষ হবার আগেই
চলে গেলাম
কিছুই বুঝিনি
দল বেঁধে সুর তুলে গাইলাম
‘পাক সার জমিন সাদ বাদ’
আকাশে উড়লো চাঁদ তারার পতাকা।
স্বাধীন পতাকাটা আকাশে দেখা দেয়ার আগেই
রাস্তায় মিছিল নামলো
শ্লোগানে শ্লোগানে মুখরিত হলো রাজপথ
রাস্ট্র ভাষা বাংলা চাই
বাঁচার মতো বাঁচতে চাই
বায়ান্ন এলো গুলি হলো শহীদ মিনার হলো
বাষট্টি এলো এলো উনসত্তুর
উত্তাল রাজপথ শহর বন্দর
এলো সত্তুর এলো একাত্তুর
শুরু হয়ে গেলো পুরোপুরি যুদ্ধ
আমরা আর চাইনা চাঁদ তারা সবুজ পতাকা
নামিয়ে দাও ওই জল্লাদের পতাকা
আবার পতাকা বদল হলো
আকাশে উড়লো চাঁদের বদলে সূর্য
সবুজ জমিন আরও সবুজ হলো
এক সাগর রক্তের বিনিময়ে
মায়ের আব্রু রক্ষা হলো
একটি ফুলকে বাঁচাবার জন্যে
ছেলেরা জীবন দিলো
ভুমি হলো পতাকা হলো জাতীয় সংগীত হলো।
কিন্তু তিনি কই
যিনি বলেছিলেন
‘রক্ত যখন দিয়েছি রক্ত আরও দেবো’
তিনি নাই তিনি আসবেন
রক্তে ভেজা সবুজ দেশে
তিনি এখনও শত্রুর কারাগারে
এরিনমোর তামাকে আগুন দিয়ে ভাবছেন
কখন চাঁদ তারা পতাকার
সিপাহসালার হবেন
না, তিনি ফিরে এলেন
লাল সবুজের দেশে
লাখো শহীদের গুমরে উঠা কান্নার মাঝে
রাতের আঁধারে ঢাকা
ওই দূর গ্রামে কুড়ে ঘরে বিলাপ করছে
আমেনার মা পুত্রের শোকে
ময়নার আরশ কাঁপানে বিলাপ
জোয়ান স্বামীর শোকে
সুফিয়াকে নিয়ে গেছে ভিনদেশী
এক সৈনিক
সে আর ফিরে আসেনি
নেতা ফিরে এলেন এমন একটি দেশে।
এলো দুর্ভিক্ষ এলো ঝড় ঝঞ্জা
চারিদিকে হাহাকার
ভাত ভাত চাই
আব্রু ঢাকার বসন চাই
আবার মিছিল
আবার গুলি
আবার রাস্তায় লাশ
চারিদিকে মৃতের মিছিল
সে মিছিল চলছে
সে শ্লোগান চলছে
এখন লাল সবুজ দেশটার
শহরে বন্দরে গাঁও গোরামে
শুধুই শহীদ মিনার
হাজার হাজার শহীদ মিনার
কবি লিখে চলেছে
‘ভাত দে হারামজাদা
না হয় মানচিত্র খাবো
হে আমার প্রিয় মানুষেরা
আরেকটি একাত্তুর দেখতে পাবো
লোকে বলে একাত্তুর শুরু হয়ে গেছে
আমিতো দেখতে পাচ্ছিনা
কেন আবার যুদ্ধ
কেন আবার রক্ত
কেন কেন কেন?
কিসের জন্যে এমন আত্মাহুতি?
দুই হাজার তেরো সাল
আমি এখন তিয়াত্তুর
একাত্তুরে ছিলাম একত্রিশ
আমিতো পারবো না আর
পতাকা নামাবার মুক্তিযুদ্ধে যেতে।