হে খোদা আমাদের রক্ষা করো

ফেরাউন নমরুদের পতন হয়েছে
খোদারই হাতে
মজলুমের কান্না আর আহাজারিতে
খোদার আরশ কেঁপে উঠেছিল
বান্দাহর এমন খোদারও সহ্যের
অতীত ছিল
তাই খোদা নিজেই আরশ ছেড়ে নেমে এসে
ফোরাউন আর নমরুদের পতন ঘটিয়ে
প্রিয় গেলাম মানুষের মুক্তি দিয়েছে।
এখনও জগতের এখানে ওখানে
নতুন ফেরাউন
মানুষের ঘাড় মচকে খাচ্ছে অবিরত
এখনও মানুষের আহাজারিতে
খোদার আরশ কাঁপে
এখনও আদ সামুদ আর লুতের জাতির মতো
দেশ ও জাতি ধ্বংস হচ্ছে।
এখানে সুনামী
ওখানে ঝড়ঝঞ্জা ভুমিকম্প
এমন কি প্রধান ফেরাউনের দেশও
ভুমিকম্পে কাঁপছে বারবার
আমরাও আজ মজলুমে পরিণত হয়েছি
আমাদের ঘরে ঘরে চলছে আহাজারি
মা কাঁদছে বাপ কাঁদছে
ভাই বোন সন্তান কাঁদছে
আমিতো দেখতে পাচ্ছি
ওই খোদার আরশ কাঁপছে
হয়ত এখনি খোদার গজব নামবে
জালেমকে ধ্বংস করতে
হয়ত এখনি ভুমিকম্প হবে
বার বার কেঁপে উঠবে
শ্যামল সবুজ দেশের নরোম মাটি
হয়ত ষোল কোটি মানুষের
বত্রিশ কোটি হাত আকাশে উঠবে
ফরিয়াদ জানাবে
হে খোদা, আমাদের সকল অপরাধ
ক্ষমা করে দাও
জানি আমাদের গুণাহর শেষ নাই
তোমার রহমততো সীমাহীন
আর জালেমকে ডুবিয়ে মারো
সাগরের বুকে
ফেরাউনের মতো নিশানা
করে রাখো নব্য ফেরাউনকে।
হে প্রভু ,তুমি কি দেখতে পাচ্ছোনা
আমিদের সাগর নদী লাল হয়ে গেছে
মজলুমের খুনে
আমাদের ফসলের মাঠ
আজ জ্বলছে আগুনে
আমরা তোমার পানাহ চাই
যেমন পানাহ করেছো তুমি
মুসার জাতিকে।

মনসুর আমার গুরু

মানসুরকে হয়ত সবাই চিনে
হয়ত চিনেনা
জগতের শ্রেষ্ঠতম খোদা প্রেমিক মনসুর
আর প্রেমের কারণেই
মনসুরের জীবন গেছে
খলিফার আদালতে।
মনসুর হাল্লাজ নামেও
অনেক বেশী পরি্চিত
মনসুর একজন শ্রেষ্ঠ কবি
খোদার প্রেমেই কবিতা লিখতো
এমন প্রেম জগতে কেউ কখনও করেনি
খলিফা ফকিহ ধর্মগুরুরা বুঝতে পারেনি
আসলেই মনসুর কি বলেছে
বলা বাক্যের কী গুঢ রহস্য
কেনইবা আইন আদালত
এমন প্রেমিকের প্রাণ হরণ করে নিলো
আমি মনসুরের একজন ভক্ত
আমি মনসুরকে ভালবাসি সীমাহীন
ভালবাসি মনসুরের কবিতা
শরীয়তী মোল্লারা
মনসুরকে চিনতে পারেনি
বুঝতেও পারেনি।
মনসুরের জিকির ছিল
‘আনা আল হক’
আমিই সত্য
খোদাতো নিজেই বলেছেন
যে আমার হয়ে গেছে
আমি তার হয়ে গেছি
আশেকের হাত পা মুখ
সবই আমার ।
খোদার এমন কথা জেনেও তারা জানেনি
কখন তারা এসব জানবে
তা শুধু খোদাই জানেন
আমিতো মনসুরের মতো পবিত্র নই
আমার শরীর ও মনে
পাপের অনেক দাগ
তবুও আমি খোদাকে ভালবাসি
না পাওয়া আর না দেখার বেদনায়
আমারও মনে হয় এই বুঝি
খোদা আমাকে ছেড়ে চলে যাবে
আর এক বিন্দুও সময় নেই
অতি আপনজনদের বলি
আমায় শেষ যাত্রার পোষাক পরিয়ে দাও
যাকে ভালবেসে
তোমাদের সবার নিন্দার কাঁটায়
রক্তাক্ত হয়েছি রাতের পর রাত
দিনের পর দিন
তার ডাক এসে গেছে
এবার আমার যাবার সময় হলো
মাত্র ক’দিনের জন্যে আমি
তোমাদের সাথে তোমাদের হয়ে ছিলাম
এবার মাটির খাঁচাটা
তোমাদের দিয়ে যাবো
যদিও আমি মনসুর নই
অমন প্রেমিকও আমি নই
দেশের আদালতে আমার ফাঁসী হবেনা
তবুও সবাইকে বলছি
আমি খোদার পাগল
হাজারও পাথর খেয়ে
দেহমন রক্তাক্ত হলেও বলবো
মনসুর আমার গুরু
আমার ভিতর খোদা থাকে
আমিও থাকি তার ভিতর
খোদা মহাসত্য
আমি সেই সত্যের দাস।

কাকে তুমি ভালবাস

কেন পাঠালে আমাকে এখানে
বলো ,শুধু একবার বলো
কি কাজ এখানে আমার
বছরের পর বছর
যুগের পর যুগ
আমি নাদান অজ্ঞ জ্ঞানহীন হয়ে
পড়ে আছি এই অজানা অচেনা বিভুঁয়ে
তোমাকে ফেলে
তোমার ক্ষমতা অসীম জানি আমি
তুমি ভাবলেই সব হয়ে যায়
কোন ইংগিত কোন শব্দ ছাড়াই
এসব আমি ভাল করেই
তবুও মন মানেনা
কিছুতেই মানেনা
কি ইচ্ছা ছিলো তোমার মনে।
আমি বড়ই লাচার অতি দূর্বল চিত্তের
অভাগা আদম সন্তান।
এখানে কত শত কোটি মানুষ
তবুও আমি বড়ই একা
আমার মনে কি হয় তা শুধু
তুমিই জানো
হাজারো মানুষের ভিড়ে
কেন আমি এমন একা
এমন মায়াবী জগত
কেন এ মনে জাগায় না দোলা
কোন দোলা
কোন বাদ্য বাজে দিন যামিনী
এই মরুময় জীবনে
কি সেই এমন টান যা আমায়
টেনে নিয়ে যায় সীমানার বাইরে
কে আকাশ থেকে ডেকে কয়
সীমানার বন্ধন চুরমার করে
ফিরে আয় আপন ঠিকানায়
কার ডাক বাজে রাত দিন
এই নাদানের কানে
একী তোমার ডাক
না তোমার কোন দূত
বা ফেরেশতার ডাক।
এত অপবিত্র আমাকে
কে ডাকে কেন ডাকে
সেতো শুধু তুমিই জানো
আমিতো যেতে চাই
এ মায়াবী লোভাতুর চালবাজ
দুনিয়া ছেড়ে
সকল বন্ধন ছেড়ে
আমার ইচ্ছায়তো কিছুই হয়না
সে তুমি ভালোই জানো
আমিতো ভালেই ছিলাম
মহা আলোময় নুরের জগতে
তুমিই পাঠিয়ে দিলে নিজের ইচ্ছায়
এ মহা অন্ধকার ময়
উলংগ জগতে
নিজের ইচ্ছায়
মহা এ সৃষ্টিতে তোমার ইচ্ছায়ইতো
একমাত্র ইচ্ছা
নিজের ইচ্ছা পুরণেই তুমি
আমাকে বিচ্ছিন্ন করেছো আলো থেকে
মাটির এ জগত যে ভাল নয়
তুমি জানো আমার চেয়ে ঢের বেশী
তবুও পাঠিয়েছো
কি যেন এক পরীক্ষার লাগি
এমন পরীক্ষা কেন রেখেছো তুমি
এই দুর্বল নাদান বান্দাহর লাগি।
অথচ তুমিই সকল ফেরেশতার
প্রতিবাদের মুখে
আমায় পাঠিয়ে দিলে
জীবন নামের কারগার দিয়ে
ভালবাসা হীন মাটির ঘরে
সাথে দিলে এক মহা শয়তানকে
আমার পিছে লেলিয়ে
আমি বুঝতে পারিনা
তুমি কি ভালবাস
অভিশপ্ত শয়তানকে
না আমাকে।

পতাকা নামাবার মুক্তিযুদ্ধ

জানিনা কখন কি হবে
আমার বা দেশের
দেশের বয়স তেতাল্লিশ
আমার তিয়াত্তুর
জানিনা কখন কি হবে
পাঁচচল্লিশে যুদ্ধ চলে মায়ের বুকে
মা আনচল দিয়ে ঢেকে রাখে আমায়
বুকের ভিতর
সাদা বেনিয়ারা চলে গেলে
মা বললো
এবার বই হাতে নেরে খোকা
বসাকের বাল্যশিক্ষা শেষ হবার আগেই
চলে গেলাম
কিছুই বুঝিনি
দল বেঁধে সুর তুলে গাইলাম
‘পাক সার জমিন সাদ বাদ’
আকাশে উড়লো চাঁদ তারার পতাকা।
স্বাধীন পতাকাটা আকাশে দেখা দেয়ার আগেই
রাস্তায় মিছিল নামলো
শ্লোগানে শ্লোগানে মুখরিত হলো রাজপথ
রাস্ট্র ভাষা বাংলা চাই
বাঁচার মতো বাঁচতে চাই
বায়ান্ন এলো গুলি হলো শহীদ মিনার হলো
বাষট্টি এলো এলো উনসত্তুর
উত্তাল রাজপথ শহর বন্দর
এলো সত্তুর এলো একাত্তুর
শুরু হয়ে গেলো পুরোপুরি যুদ্ধ
আমরা আর চাইনা চাঁদ তারা সবুজ পতাকা
নামিয়ে দাও ওই জল্লাদের পতাকা
আবার পতাকা বদল হলো
আকাশে উড়লো চাঁদের বদলে সূর্য
সবুজ জমিন আরও সবুজ হলো
এক সাগর রক্তের বিনিময়ে
মায়ের আব্রু রক্ষা হলো
একটি ফুলকে বাঁচাবার জন্যে
ছেলেরা জীবন দিলো
ভুমি হলো পতাকা হলো জাতীয় সংগীত হলো।
কিন্তু তিনি কই
যিনি বলেছিলেন
‘রক্ত যখন দিয়েছি রক্ত আরও দেবো’
তিনি নাই তিনি আসবেন
রক্তে ভেজা সবুজ দেশে
তিনি এখনও শত্রুর কারাগারে
এরিনমোর তামাকে আগুন দিয়ে ভাবছেন
কখন চাঁদ তারা পতাকার
সিপাহসালার হবেন
না, তিনি ফিরে এলেন
লাল সবুজের দেশে
লাখো শহীদের গুমরে উঠা কান্নার মাঝে
রাতের আঁধারে ঢাকা
ওই দূর গ্রামে কুড়ে ঘরে বিলাপ করছে
আমেনার মা পুত্রের শোকে
ময়নার আরশ কাঁপানে বিলাপ
জোয়ান স্বামীর শোকে
সুফিয়াকে নিয়ে গেছে ভিনদেশী
এক সৈনিক
সে আর ফিরে আসেনি
নেতা ফিরে এলেন এমন একটি দেশে।
এলো দুর্ভিক্ষ এলো ঝড় ঝঞ্জা
চারিদিকে হাহাকার
ভাত ভাত চাই
আব্রু ঢাকার বসন চাই
আবার মিছিল
আবার গুলি
আবার রাস্তায় লাশ
চারিদিকে মৃতের মিছিল
সে মিছিল চলছে
সে শ্লোগান চলছে
এখন লাল সবুজ দেশটার
শহরে বন্দরে গাঁও গোরামে
শুধুই শহীদ মিনার
হাজার হাজার শহীদ মিনার
কবি লিখে চলেছে
‘ভাত দে হারামজাদা
না হয় মানচিত্র খাবো
হে আমার প্রিয় মানুষেরা
আরেকটি একাত্তুর দেখতে পাবো
লোকে বলে একাত্তুর শুরু হয়ে গেছে
আমিতো দেখতে পাচ্ছিনা
কেন আবার যুদ্ধ
কেন আবার রক্ত
কেন কেন কেন?
কিসের জন্যে এমন আত্মাহুতি?
দুই হাজার তেরো সাল
আমি এখন তিয়াত্তুর
একাত্তুরে ছিলাম একত্রিশ
আমিতো পারবো না আর
পতাকা নামাবার মুক্তিযুদ্ধে যেতে।