জানিনা আর দেখা হবে কিনা

কথা ছিল তোমার শহরে আসবো আমি
প্রতিদিনই ভাবি যাই একবার
আর হয়ত সময় পাবোনা
হয়ত সময় আমাকে আর সময় দিবেনা।
অনেকদিন হলো আমি আমার শহরে যাইনি
বেশী দূরের পথ নয়
গাড়িতে গেলে দুই তিন ঘন্টা
দাদার আমলে নাকি দুই তিন দিন লাগতো
আমিও দেখেছি
দশ বারো ঘন্টা লাগতো।
এখন পারিনা
বয়সই এখন সবচে বড় বাধা
অভ্যাসও কম বাধা নয়
তোমার শহরে যেতেতো ষোল সতেরো ঘন্টা
লেগে যায় প্লেনে গেলে
হাত পা অবশ হয়ে যায়
বয়সের কারণে আর সাহস হয়না।
এখনতো সময় খুবই খারাপ
মনে হয় একাত্তুর এসে গেছে
দিনের পর দিন হরতাল অবরোধ
গোলাগুলি,রাবার বুলেট,ককটেল
মনে হয় কোন বিদেশী দেশ
সিরিয়া ইরাক আফগানিস্তান
ফিলিস্তিন,সোমালিয়া কাশ্মীর
ছেলেরা ইটের টুকরা ছুড়ছে
পুলিশ বিজিবি আর রেব গুলি ছুড়ছে।
কেন যে এমন হলো বুঝতে পারিনা
চারিদিকে শুধু আগুন আর আগুন
চারিদিকে মৃত্যুর মিছিল
একাত্তুরে ছেলেরা প্রাণ দিয়েছে অকাতরে
ভাইয়ে ভাইয়ে বনি বনা হচ্ছেনা
ছেলেরা বললো এমন শোষন
আর চলতে দেয়া যায়না
তাই আলাদা হয়ে যেতে হবে
যারা শোষণ করছিলো তারা নেমে
কামান বন্দুক নিয়ে
ভাইয়ের বুকে গুলি করতে।
কোন সমঝোতার চেষ্টা কেউ করলোনা
রক্ত দিয়েই আলাদা হতে হলো
ভাইয়ে ভাইয়ে এমন রক্তারক্তি আর দেখিনি
কিন্তু তেতাল্লিশ বছর পরে কি এমন ঘটলো
আবার রাক্তারক্তি
এবার ছেলদের কি চাহিদা
বা মুরুব্বীদের কি চাহিদা
এবার ঘর ভেংগে কি করবে
কোথায় যাবে ছেলেরা
বা ঘরের মুরুব্বীরা
দেশের এমন অবস্থায়
কি করে আসবো তোমার ওখানে
একাত্তুরে বলেছিলাম দেশ শান্ত হলে
তোমাকে একটা সাইকেল কিনে দিবো
দুই হাজার তেরোতে তুমি আমায় কি বলবে
না ,এমন কিছু বলোনা
যাতে আমার মন ভেংগে যায়
দয়া করে কখনও বলো না
এমন দেশে তুমি আর ফিরবেনা
মনে রেখো এটাই তোমার দেশ
এখানেই আমার বাবা মা
দাদা দাদী নানা নানী শুয়ে আছেন
ওই মাটির নীচে
তোমার দাদা দাদী নানা নানীও
হয়ত ক’দিন পরে আমিও
চলে যাবো সেখানে
যেতেই হবে
এটাই প্রাণের নিয়তি
ইচ্ছায় হোক অনিচ্ছায় হোক
সবাইকে যেতে হবে
এখন তাই আমি দেশ ছেড়ে
কিছুতেই যাবো না
তুমিও বলোনা আমায়
তোমার শহরে যেতে
আমার বাড়ির গাছ পালা নদী নালা
হাঁস মুরগী গরু বাছুর
সবই অপেক্ষা করছে আমার জন্যে
জানিনা তোমার সাথে আর দেখা হবে কিনা।

Advertisements