অলকাকে বাঁচতে দাও

সাদা বেন্ডজ আর প্লাস্টারে মোড়া
অলকা হাসপাতালের বেডে
শেষ নিশ্বাসটা ফেলার আগে
হয়ত দুই তিন মিনিট আগে
মাকে বলছে
কেমন করে এমন হলো মা
কিছুইতো মনে করতে পারছিনা
আমি আর বাবাতো এক সাথেই
বাসায় ফিরছিলাম
বাবাতো আমার পাশেই ছিলো
হাতে ছিল
আমার শীতের নতুন জামা
বাবার মুখে ছিল অনাবিল হাসি
একটু পরেই
আমরা বাসায় ফিরে যাবো
কি হয়েছিল মা
কেমন করে এমন হলো?
মা আয়েশার চোখে
সাগর সেঁচা অশ্রু
আমি কাঁদছো কেন মা
আমিতো বাসায় ফিরে যাবো
তোমার কথা মতো পড়ালেখা করবো
বড় হলে ডাক্তার হবো
বাবা কোথায় মা
বাবাতো আমার পাশেই ছিল
বাবা কি তাহলে বাসায় ফিরে গেছে
মা আয়েশা এবার
সাগরের ঢেউয়ের মতো আছড়ে পড়ে
অলকার বুকে
সাগরের গর্জনের মতো
কান্নার ঢেউ ভেংগে পড়ে।
তুমি অমন করে কেঁদোনা মা
একটু পরেই আমরা বাসায় ফিরে যাবো
বাবাকে ডেকে নাও
আমরা বাসায় ফিরে যাবো
মাগো,তুমি আর কেঁদোনা
আমার কষ্ট হচ্ছে
আমার চোখ ঝাপসা হয়ে আসছে
কেমন অন্ধকার নেমে আসছে
তোমার কান্না থামাও
আমাকে বুকে টেনে ধরো
ওই দেখো আগুন ধেয়ে আসছে
আমার দিকে
আমাকে টেনে নিয়ে যাচ্ছে
মা, বাঁচাও আমাকে
বাবাকে খবর দাও।
আয়েশা চিত্‍কার করে ডাক্তার ডাকে
ডাক্তার আসে
না,ততক্ষণে অলকাকে আগুন নিয়ে গেছে
হে আগুন
রাজনীতি থেকে সরে যাও
বাংলাদেশকে রক্ষা করো
আমাদের হাজারো অলকাকে।
( সৈয়দ ইশতিয়াক আহমদকে নিবেদিত)