এই বাংলাদেশে কোন বেঈমানের ঠাঁই নেই

একাত্তুরে জনপতির সাথে সেনাপতির
বনিবনা হয়নি
জনপতি কি বলেছিলেন
তা আজও দেশবাসী জানেনা
সেনাপতিও কিছুও জানাননি
দেশের মানুষকে
কিছু বুঝে উঠার আগেই
সৈনিকরা গোলাবারুদ নিয়ে মাঠে নেমে গেল
নিজের দেশকে জয় করার জন্যে
নিজের মানুষকে পরাজিত করার জন্যে।
শুরু হয়ে গেল জ্বালাও পোড়াও
জ্বলতে লাগলো সারা বাংলাদেশ
মরতে লাগলো দেশের মানুষ
নরনারী শিশু কিশোর যুবক যুবতী
আবাল বৃদ্ধ বণিতা
মায়েরা বোনেরা রেহাই পায়নি
এক সময় যারা ছিল ভাই বেরাদর
মায়ের আদরের ছেলে
তাদের হাতে
যারা রাতারাতি হয়ে গেল হানাদার।
সেই সেনাপতি পরাজিত হলো
পরাজিত হলো হাজার সৈনিক
কিন্তু কেন?
কি এমন জরুরী ছিল
যা খুনাখুনি না করে সমাধা করা যায়নি
এমন খুনাখুনি কেউ করে
জনপতি বা জননেতা
কিছু না বলেই চলে গেলেন
শত্রুর বাড়িতে
ফিরে এলেন
কিন্তু কখনই বলেননি
কেন এমন হয়েছিল
যা কথা বলে সমাধা করা যায়নি
কি এমন জটিল বিষয় ছিল
যা সমাধা বা সমঝোতার জন্যে
যুদ্ধ করতে হলো।
পরাজিতরা সব মাথা নিচু করে চলে গেছে
সেই বাহাত্তুরে
এখনতো দুই হাজার তের
কেন সবুজ শ্যামল দেশটি জ্বলছে
কে লাগাচ্ছে ঘরে আগুন
কে জ্বালিয়ে দিচ্ছে দেশের মানুষ
জীবন্ত মানুষকে কারা জ্বালিয়ে দিচ্ছে
এখনতো সবাই এক
ভাষা এক
বোলচাল এক
টেকনাফ থেকে তেতুলিয়া
ভিন্ন কেউ নেই
সবাইতো একই মায়ের সন্তান
তবুও বিরোধ কেন
যে বিরোধে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ছে
শত শত প্রাণ।
একাত্তুরে প্রতিবেশী সমঝোতা চায়নি
চেয়েছিল যুদ্ধ
চেয়েছিল বিজয়
দুই হাজার তেরোতে এসে
কি চায় সেই পুরাণো প্রতিবেশী
কেন এতো দুতিয়ালী
এবারও কি একাত্তুরের মতো জটিল
আমাদের দেশের অবস্থা
তাহলে বিরোধটা কে বাঁধিয়ে দিলো
কারা আবার সালিশে এলো
কেন জনতার মুখোমুখি
নিজেদেরই সরকার
তাহলে সরকার কি আমাদের নেই
সরকারটা কি কেউ দখল করে নিয়েছে
লেন্দুপ দর্জির মতো
কেউ কি জন্ম নিয়েছে
সবুজ শ্যামল দেশে
কে এই লেন্দুপ
কোথা তার জন্ম
কি চায় আজ এই দেশের কাছে
দেশের মানুষের কাছে
দর্জির কি কোন গাপন চুক্তি আছে
যা আমাদের পতাকাকে
পুড়িয়ে দিতে চায়।
হে লেন্দুপ
হে মীরজাফর হে ইয়াহিয়া
তোমাদের বংশধরদের পরাজয় দেখতে
সবুজ বাংলাদেশে আসো
এই শেষবারের মতো
তোমাদের বিদায় নিতে হবে
চিরদিনের মতো
এই বাংলাদেশ
বাংলার মানুষের
এখানে বিভীষণের কোন স্থান নেই
জয় হোক গণমানুষের
জয় হোক সবুজ পতাকার
কোন জালেম বেঈমানের ঠাঁই
এই বাংলাদেশে।

আমি সেই দেশের কথা বলছি

আমি সেই দেশ থেকে বলছি
যেই দেশে যোল কোটি লোক বাস করে
মানুষ বলবো কিনা ভাবছি
দেখতে মানুষের মতো হলেও
সবাইতো আর মানুষ নয়
সবার মনুষ্যত্ব থাকেনা
সবার মানুষের মতো বোধ থাকেনা।
আমি সেই দেশ থেকে বলছি
যেই দেশে কিছু লোক
চোখের সামনে ডাকাতি করে
একদিন অভিজাত হয়
মন্ত্রী শান্ত্রীর বেয়াই হয়
এমপি হয় মন্ত্রী হয়
হাজার কোটি টাকার মালিক হয়
ভোর হলেই খাই খাই করে
রাত হলে বোতল চাখে
নারীর কোলে ঢলে পড়ে
দেশে অথবা বিদেশে।
আমি এমন একটি দেশ থেকে এসেছি
যেখানে শত বছরেও
গরীবের ভাগ্য বদলায়না
যেখানে গরীবেরা উত্‍পাদন করে
আর কিছু লোক লুটেপুটে খায়
যেখানে কৃষক শ্রমিক দিন মুজুর
দুবেলা খেতে পায়না
যেখানে শিশুরা গৃহ শ্রমিক হয়
জীবন দেওয়ার জন্যে
যেখানে পিতা মিছিলে জীবন দেয়
যেখানে মা নির্যাতিত হয়
সমাজপতিদের হাতে।
আমি সেই দেশ থেকে এসেছি
কিছু কথা বলবো বলে
নেতারা বলেছিল জীবন দাও
স্বাধীনতা দেবো
সুখ পাবে শান্তি পাবে
থাকার জায়গা পাবে
শিক্ষা পাবে
দুবেলা খাবার পাবে
চিকিত্‍সা পাবে
শুধু জীবনটা দাও
শুধু একবার জীবনটা দাও।
তিরিশ লাখে আমরা
নিরানব্বই দশমিক নয়
ওরা শূণ্য দশমিক এক
বলতে পারিনা বুক ফেটে কান্না আসে
ওরা দেশটাকে দখল করে নিয়েছে
আমরা আজ দেশহারা
আমাদের কোন স্বাধীনতা নেই
আমরা পরাধীন
আমাদের আছে শুধু
জাতীয় পতাকা
জাতীয় সংগীত
জাতীয় ফুল পাখি।
আমি সেই দেশের কথা বলছি
যেই দেশের লোক
স্বাধীনতা খায়
ফুল পাখি খায়
জাতীয় সংগীত খায়
আর হাটে মাঠে
সুর তুলে গাণ ধরে
‘আমার সোনার বাংলা
আমি তোমায় ভালবাসি’