পুরো পাগল করে দাও

বাইরে তখন অঝোরে আগুন ঝরছে
ভিতরে কান্না ভেংগে পড়ছে
রাত হয়তো গভীর হয়েছে
হয়তো হয়নি হবে হবে করছে
জানালায় তাকিয়ে দেখি
আবছা আবছা কার মুখ।
না ভয় লাগেনি
পাগল বলে ভয় জিনিষটা আমার
কখনই ছিলনা
মা তাই সব সময় বলতো
আমার পাগল ছেলেটা
কখন কি করে বসে ঠিক নেই।
বাপরে ,তোর কখন বুদ্ধি হবে
আমি বলতাম
জগতে কি সবার বুদ্ধি হয়
ভয় পেয়োনা মা
আমিতো তোমাকে ভালবাসি
আমার চেয়েও বেশী
তুমি আছো বলেই
আমি আজও আছি
সবাই পাগল বলুক
তুমি আমায় পাগল বলোনা।
জানালার কাছে গিয়ে দেখি একী!
আমার মা
আমার ভেতরের কান্না বাইরে চলে এলো
মা এতদিন কোথায় ছিলে
সেই যে চলে গেলে আমায় ফেলে
কেমন করে ফিরে এলে মাগো
কোথায় পেলে আমার ঠিকানা
তুই তাহলে আমায় চিনতে পেরেছিস বাপজান
অমন গুণাহর কথা বলোনা
তোমায় না চিনলে
আমাকেই ভুলে যেতে হয়
অমন কথা বলোনা মা
মাকে ভুলে
জগতে কি কোন সন্তান বাঁচে।
কি সুন্দর আমাদের এই দেশটা
আর আগুন জ্বালিয়ে দিলি
আজ সব জ্বলছে দাউ দাউ করে
জ্বলছে সব গ্রাম
সব মাঠ সব নদী সব সাগর
কেনরে খোকা সবুজ দেশটাকে
ছাই করে দিলি
এমন দেশ কোথায় পাবি আর।
তুই কি এখন পাগলামো করিসনা বাপ
করি মা,এখনও করি
দেয়ালে মাথা ঠুকি
ভাংচুর করি
ঘর ফেলে চলে যাই
রাস্তায় দাঁড়িয়ে মা মা বলে চিত্‍কার করি
কখনও পুলিশ
কখনও পথচারী
ধরে ঘরে ফিরিয়ে দেয়
ওরা আমায় বেঁধে রাখে
এই দেখো আমার হাতে পায়ে বেড়ী।
আমি যে জ্বলছি খোকা
আর কত জ্বালাবি আমায়
আমি জানি মা
ওরা তোমায় জ্বালিয়ে দিচ্ছে
যারা সবুজ শ্যামলকে ভয় পায়
তুমিতো আমায়
পুরো পাগল হতে দাওনি মা
তাহলে আজ তোমার সবুজ শাড়িটা
পুড়ে ছাই হতোনা
মাগো, হাত বুলিয়ে দাও
আমার মথায়
পুরো পাগল হতে দাও
আমি সব ছারখার করে দেবো
ওদের তখত তাউস
ওদের স্বপ্নের বালাখানা।
তোমার পুরো পাগল ছেলে
আবার বুনবো সবুজ শ্যামল শাড়ি
আবার বুনবো শস্য শ্যামল ফসলের ক্ষেত
মাথায় হাত বুলিয়ে দাও
আমায় পুরো পাগল করে দাও
এবার বুঝলেতো মা
পুরো পাগল না হলে
কেউ মাকে ভালবাসতে পারেনা
তুমিতো জানো মা
স্বয়ং খোদা মজনুকে ভালবাসেন।