আমাকে অন্ধ করে দাও

বন্ধু,আর কাকে বলবো মনের কথা দু:খের কথা
তুমি জানো ভাল করে সারা জীবন
কেমন করে সকল জ্বালাতন সহ্য করে
দেশের কথা বলেছি
দেশের মানুষের কথা বলেছি
এখনও বলছি
কখনও কাউকে বলিনি
আমাকে পদক দাও
এটা দাও সেটা দাও
দেশ বা দেশের মানুষকে ভালবাসার বিনিময়ে
একাত্তুরে মুক্তিযুদ্ধে গিয়েছি
মায়ের সম্ভ্রম বাঁচাবার জন্যে
এখনও মায়ের কথা ভেবেই কলম ধরে আছি।
বড় আশা ছিল একদিন
মায়ের সকল দু:খ ঘুচে যাবে
মায়ের মুখে হাসি ফুটবে
ভাই বোন সবাই
দুবেলা পেট পুরে খেতে পাবে
শিশুরা স্কুলে যাবে
অসুখে চিকিত্‍সা পাবে
নিজের মনের কথা
প্রাণ ভরে বলতে পারবে
পাশ করা ছেলের চাকুরী হবে
পাকিস্তানীরা চলে গেলে
সব সুখ আনন্দ ভোরের আলের মতো
আমাদের ঘরে আসবে।
না ,কিছুই আসেনি
দু:খ বাসা বেঁধেছে
আমাদের ঘরে বাইরে
শত দু:খেও বলি
সবর ধরলে একদিন সুখ আসবেই
এখন আমার ছেলে বলে
বাবা,তোমার চেতনা আছে?
মেয়ে বলে,তুমি বাংগালী না মুসলমান
বউ বলে তুমি একটা অথর্ব
আমি চুপ করে থাকি
আমার কাছে এসবের কোন উত্তর নেই।
এসব না ভেবেই আমি
এদেশকে ভালবেসেছি
আমার মাকে ভালবেসেছি
মাটিকে ভালবেসেছি
তাইতো বলেছি
‘আমার সোনার বাংলা আমি তোমায় ভালবাসি’
বুঝতে পারছিনা বন্ধু
আমার ভালবাসা মিথ্যা না
আমার মুক্তিযুদ্ধ মিথ্যা
বুঝতে পারছিনা বন্ধু
কোনটি সত্য
মুক্তিযুদ্ধ
স্বাধীনতা?।
জানি তুমি বলবে সবই সত্য
আর বলবে সময়ের দোষ
আর সময়টা তেমন ভাল না
চুপচাপ একটু সহ্য করো
এখন চারিদিকে আগুন জ্বলছে
ঘর বাড়ি পুড়ছে
এখন চারিদিকে মানুষ মরছে
রাস্তায় লাশের মিছিল
সময় ঠিক হয়ে গেলে
তোমায় সবই খুলে বলবো
দেখছোনা এখন রবার্ট ক্লাইভের আনাগোনা
কাশিম বাজার কুঠিতে
গোপন বৈঠক চলছে
হিল্লী থেকে বিড়াল মাসী আসছে ধেয়ে
তুমি আর কটা দিন চুপ থাকো
এ বয়সেও অবুঝ হয়োনা
সারা জীবন পাগলামো করেছো
এখন একটু শান্ত হও।
বন্ধু ,আমি ততদিন সময় পাবোনা
ততদিনে আমায় মায়ের পরাজয় হবে
মায়ের আব্রু কেড়ে নেবে ওরা দলে দলে এসে
আর আমি শুধু দাঁড়িয়ে দেখবো
না পারবোনা বন্ধু
মায়ের পরাজয় মানে আমার পরাজয়
সবার পরাজয়
বহু রক্তের বিনিময়ে পাওয়া
এই স্বাধীনতা বন্ধু
চোখের সামনে পতাকার পতন
আমি দেখতে পারবো না
তার চেয়ে ভাল বন্ধু
তুমি আমায় অন্ধ করে দাও।

ওরা তোমাকে গুম করে দিতে চায়

ফোন আসছে স্কাইপে হচ্ছে ফেসবুক বলছে
হ্যালো, দেশ কেমন আছে
ভাই আপনারা সব নিরাপদে আছেনতো
মা কি খবর বলোতো
তোমরাওতো ফোন করতে পারো।
সারাদিন কাজে থাকি
কাজে মন বসেনা
শুধু তোমাদের কথা ভাবি
কি হলো দেশটার হঠাত্‍ করে
তোমরাতো একাত্তুর দেখেছো
আমিতো দেখিনি
শুনেছি তোমাদের কাছে।
চারিদিকে এত আগুন কেনো
চারিদিকে এত লাশ কেন
পুলিশ গুলি করছে কথায় কথায়
অচেনা লোকেরা লাঠি দিয়ে
পিটিয়ে মারছে দেশের মানুষ
নেতা বলছে মুক্তিযুদ্ধ শুরু হয়ে গেছে
স্বাধিনতা বিরোধীদের খতম করতে হবে
প্রধানমন্ত্রী বলছেন রাস্তায় নামুন
দেখি কার কত ক্ষমতা
আবার বলছেন একটি লাশ পড়লে
দশটি লাশ পড়বে।
কেন মা দেশটার এমন হলো
আমরাতো সবাই এক
আমরাইতো দেশ চালাই
তাহলে শত্রু কে আর মিত্র কে
স্বৈরাচারকেতো নব্বইতে বিদায় দিয়েছি
এখনও কি কোথাও স্বৈরাচার আছে মা।
দেশ ছেড়ে বিদেশে আছি পেটের দায়ে
যেখানেই যাই
সবাই জানতে চায় কি হয়েছে
এমন সবুজ শ্যামল দেশর
কে আগুন জ্বালাচ্ছে দিকে দিকে
এমন সোনার দেশে
ভাইয়ে ভাইয়ে এমন হানাহানি
তোমরা কি দেখেছো একাত্তুরে
জানি দেখোনি
তখনতো বলেছো
দেশ হানাদার মুক্ত হলেই
দেশে শান্তি আসবে
এখনতো সেন পাল মোঘল পাঠান কেউ নেই
তাহলে আবার কেন
এতো মারামারি
এতো হানাহানি
এতো রক্ত
এতো আগুন
পথে পথে এতো লাশ
এই পুলিশ
এই রেব
এই বিজিবি
এই আনসার
দেখলে কি মনে হয়
ওরা পাটগ্রাম দশ গ্রামের
রহিমুদ্দি করিমুদ্দির পোলা
ওরা কাকে রক্ষা করছে
কিসের জন্যে কথায় কথায়
মারছে গুলি মাথার খুলিতে
মারছে লাথি বুকে পিঠে
আমিতো এখানে বসেই শুনতে পাই
মাগো চিত্‍কার
মাগো ,আমি কি করবো বলো
কান্নায় বুক ভেংগে যাচ্ছে
কেন এমন হলো
আমাদের এমন সোনার দেশে
তুমি কি বুঝতে পারো মা
কেমন এমন হচ্ছে
কে লাগিয়ে দিলো ভাইয়ে ভাইয়ে
এমন খুনোখুনি
কেন রাস্তায় গড়াগড়ি
রক্তমাখা সবুজ পতাকার
ভালো করে ভেবে বলো মা
রাতের আঁধারে গোপনে গোপনে
মুখোশ পরে
সীমানা পেরিয়ে কেউ এসেছে কিনা
আমাদের আশে পাশ চোর ডাকতের
আনাগোনা বড় বেড়ে গেছে মা
ওরা তোমাকেই গুম করে দিতে চায় মা।

পুরো পাগল করে দাও

বাইরে তখন অঝোরে আগুন ঝরছে
ভিতরে কান্না ভেংগে পড়ছে
রাত হয়তো গভীর হয়েছে
হয়তো হয়নি হবে হবে করছে
জানালায় তাকিয়ে দেখি
আবছা আবছা কার মুখ।
না ভয় লাগেনি
পাগল বলে ভয় জিনিষটা আমার
কখনই ছিলনা
মা তাই সব সময় বলতো
আমার পাগল ছেলেটা
কখন কি করে বসে ঠিক নেই।
বাপরে ,তোর কখন বুদ্ধি হবে
আমি বলতাম
জগতে কি সবার বুদ্ধি হয়
ভয় পেয়োনা মা
আমিতো তোমাকে ভালবাসি
আমার চেয়েও বেশী
তুমি আছো বলেই
আমি আজও আছি
সবাই পাগল বলুক
তুমি আমায় পাগল বলোনা।
জানালার কাছে গিয়ে দেখি একী!
আমার মা
আমার ভেতরের কান্না বাইরে চলে এলো
মা এতদিন কোথায় ছিলে
সেই যে চলে গেলে আমায় ফেলে
কেমন করে ফিরে এলে মাগো
কোথায় পেলে আমার ঠিকানা
তুই তাহলে আমায় চিনতে পেরেছিস বাপজান
অমন গুণাহর কথা বলোনা
তোমায় না চিনলে
আমাকেই ভুলে যেতে হয়
অমন কথা বলোনা মা
মাকে ভুলে
জগতে কি কোন সন্তান বাঁচে।
কি সুন্দর আমাদের এই দেশটা
আর আগুন জ্বালিয়ে দিলি
আজ সব জ্বলছে দাউ দাউ করে
জ্বলছে সব গ্রাম
সব মাঠ সব নদী সব সাগর
কেনরে খোকা সবুজ দেশটাকে
ছাই করে দিলি
এমন দেশ কোথায় পাবি আর।
তুই কি এখন পাগলামো করিসনা বাপ
করি মা,এখনও করি
দেয়ালে মাথা ঠুকি
ভাংচুর করি
ঘর ফেলে চলে যাই
রাস্তায় দাঁড়িয়ে মা মা বলে চিত্‍কার করি
কখনও পুলিশ
কখনও পথচারী
ধরে ঘরে ফিরিয়ে দেয়
ওরা আমায় বেঁধে রাখে
এই দেখো আমার হাতে পায়ে বেড়ী।
আমি যে জ্বলছি খোকা
আর কত জ্বালাবি আমায়
আমি জানি মা
ওরা তোমায় জ্বালিয়ে দিচ্ছে
যারা সবুজ শ্যামলকে ভয় পায়
তুমিতো আমায়
পুরো পাগল হতে দাওনি মা
তাহলে আজ তোমার সবুজ শাড়িটা
পুড়ে ছাই হতোনা
মাগো, হাত বুলিয়ে দাও
আমার মথায়
পুরো পাগল হতে দাও
আমি সব ছারখার করে দেবো
ওদের তখত তাউস
ওদের স্বপ্নের বালাখানা।
তোমার পুরো পাগল ছেলে
আবার বুনবো সবুজ শ্যামল শাড়ি
আবার বুনবো শস্য শ্যামল ফসলের ক্ষেত
মাথায় হাত বুলিয়ে দাও
আমায় পুরো পাগল করে দাও
এবার বুঝলেতো মা
পুরো পাগল না হলে
কেউ মাকে ভালবাসতে পারেনা
তুমিতো জানো মা
স্বয়ং খোদা মজনুকে ভালবাসেন।