বন্ধু

বন্ধু / এরশাদ মজুমদার

বন্ধুর বেদনায় আমি ব্যথিত আহত
সারাক্ষন ঝরছে ক্লান্ত চোখের পানি
বন্ধু আমাকে ছেড়ে কোথায় কাঁদে
আমি আজও জানতে পারিনি।
আমিতো বন্ধু পাগল সেকথা কখনও
বন্ধু বুঝেছে আজও মনে হয়নি
আমি যে শেষ হয়ে গেছি বন্ধ বিহনে
কখনও বলিনি এ জগতের কাউকে
আমি শুধু ভাবি বন্ধু আমার কেমন আছে
আমি ছাড়া আমার সংগ ছাড়া একাকী
সেখানে এ জগতের কোন কোনে
বন্ধুর কষ্টের কথা ভেবে আমার
কষ্টের ক্ষত গুলো শুকিয়ে গেছে এতদিনে
সেই ক্ষত দেখে দেখে আমার দিন কাটে
আর বন্ধুর মুখ খানি পাগল হৃদয়ের আয়নায়।

মিশে যাচ্ছি তোমার সাথে

মিশে যাচ্ছি তোমার সাথে   / এরশাদ মজুমদার

বুঝতে পারিনি প্রিয় সে রাতে কেমন করে

তুমি মিশে যাচ্ছিলে আমার ভিতর

না আমি মিশে যাচ্ছিলাম তোমার সাথে

এখন বুঝতে পারছি প্রিয় তখন

না  রাত ছিল না দিন ছিল

না অন্ধকার না আলো ছিল আমাদের মাঝে।

হে প্রিয়তম,তুমি কি সত্যিই মিশে যাচ্ছিলে

আমার ভিতর,না আমি শুধু ভাবছিলাম

ও রকম করে। হয়ত তুমিই আমাকে ভাবাচ্ছিলে

যে ভাবছিলে তুমি আমাকে নিয়ে।

আমাদের এমন প্রেম ,এমন ভালবাসার কথা

কে জানে তুমি আর আমি ছাড়া

হয়ত মানুষ বিশ্বাসই করেনি বা করবেনা

আমি আর কতকাল বিচ্ছিন্ন থাকবো প্রিয়

এমন বিদেশ বিভুঁইয়ে যেখানে আপন বলে

আমার কেউই নাই। দুনিয়া বলো আর

গায়ের দুনিয়া বলো আমিতো কখনই

নিজেকে আলাগ ভাবিনি।

হয়ত তুমি আছো আমার ভিতর

হয়তো নাই। না হয় আমিই আছি সেখানে

যেখানে অবিরাম অবিরত তোমার গুণ গাণ হচ্ছে

হাজারো কোটি প্রেমিক প্রেমিকা

তোমার নামের তসবী্হ করছে

আমি দাবী করছি প্রিয় আমি এ জগতের

প্রথম প্রেমিক তোমাকে ছাড়া একটি শ্বাসও কাটিনি।

আসো প্রিয়, আমাদের এই সাজানো ঘরে

চিরদিনের মতো মিশে যাবো তোমার সাথে আমি।

এ কেমন ভালবাসা

এ কেমন ভালবাসা বলো / এরশাদ মজুমদার

জীবন বন্দী হয়ে থাকে সময়ের ভিতর
সময়ও তেমনি ধারন করে জীবনকে
আমিও বন্দী থাকি সময়ের বৃত্তের ভিতর
সময়ই দিতে পারে মুক্তি এই বন্দীদশা থেকে।
মুক্তিই হচ্ছে প্রকৃত জীবনের পথে নতুন যাত্রা
এ যাত্রার পথিক হতেই হবে ইচ্ছা বা অনিচ্ছায়
আমিও এক একাকী পথিক সে মহাযাত্রার
ইচ্ছায় নয় আমি আপন আনন্দেই যেতে চাই।
পুরাণো জগত ফেলে আসল জগতের কাছে
দেখবো আমি আমার আমাকে কেমন করে ছিলাম
যখন আমি দেহ ছাড়া ছিলাম শুধু এক অদৃশ্য প্রাণ
একদিন তুমি মনের আনন্দে ডেকেছিলে আমায়।
বলেছিলে আমায় বলোতো দেখি চিনতে পারো কি
এই আমাকে কোথায় কখন হয়েছিল দেখা
আমিতো মনের আনন্দেই বলেছিলাম
চিনবোনা তোমায় ভাবলে কেমন করে।
তুমিইতো সব এখানে ওখানে জগতে মহাজগতে
তুমি না হলে যে কোথাও কিছুই হতোনা
সব কথা সব গাণ সব সুর জীবনের সব লেনদেন
কখনও ভুলিনি প্রিয়।
ভুলবার কথা কেন যে আজ জানতে চাও তুমি
সব বুঝি প্রিয়,শয়তানকে পিছনে লাগিয়ে
এখন জানতে চাও কেমন আছি ঠগবাজ দুনিয়ায়
অশেষ অবাক লাগে প্রিয় তোমার ভালবাসা দেখে।

বিদায় বেলায়

বিদায় বেলায় / এরশাদ মজুমদার

বিদায় বেলায় তোমাকে দেখেছি
তুমি কিছু বলোনি
তোমার শুকনো ঠোঁট দুটো কাঁপছিলো
চোখ দুটো ছিলো ছল ছল
আমি জানি তোমার অনেক কিছু বলার ছিলো
বলতে পারোনি
এমন সময়ের কোন ভাষা থাকেনা
কোন শব্দ দিয়ে
এমন সময়কে বুঝানো যায়না।
শুধু আমি জানি তোমার
না বলা কথা গুলো
আমারও হয়তো কিছু বলার ছিলো
শব্দ আর আমার কান্নার লড়াই চলছিলো
কে কাকে থামিয়ে দিয়ে
সময়কে জয় করবে।
না জয় পরাজয়েরা তখন
কোথাও কাছে ছিলোনা
আমি শুধু তোমাকে দেখছিলাম
তোমার চোখ দেখছিলাম
দেখছিলাম দুটো আকাশের মতো চোখ
বেশ বুঝতে পারছিলাম
চোখের পাতাগুলো
কদম ফুলের মতো
বিকশিত ছিলো।
কেন এমন হয়
আজও আমি বুঝতে পারিনি
আবেগ গুলো কোথায় ছিলো
সময়ের ভিতর
না আমার অচেনা হৃদয়ের ভিতর
সময় কি কখনও আবেগ হয়
বা আবেগই কি সময়ের ভিতর
লুকিয়ে থাকে
কে এমন আবেগ জাগিয়ে দেয়
সময়ের ভিতর
তোমার ভিতর
আমার ভিতর
আজও জানা হলোনা
আবেগ ঝরো হাওয়ার মতো
আমেকে বিচ্ছিন্ন করে
তোমা থেকে
প্রবল বেগে নিয়ে যায় তার কাছে
যাকে আমি প্রচন্ড ভালবাসি
যদিও কখনও দেখিনি।

যেখানেই তাকাও সেখানেই আমি

যেখানেই তাকাও সেখানেই আমি     / এরশাদ মজুমদার

আমার কথা মনে হলেই তাকিয়ে

দেখো ওই রাতের আকাশের দিকে

যেখানে তারার দল খেলা করে

সেখানেই আছি আমি

মেঘে ভরা আকাশেও দেখবে আমায়

কেমন হেসে খেলে বেড়াই।

ভোরের নরোম আকাশে দেখিও

আমি কেমন উঁকি জুঁকি দিয়ে

খেলছি আকাশবাসীর সাথে

সেনালী মাঠের দিকে চোখ পড়লেই

দেখতে পাবে সোনালী ধানের দোলখেলা

দেখতে পাবে ফিঙে পাখির নাচন

নদীতে রূপালী মাছেরা করছে কেমন খেলা।

মাঝ আকাশে পাখির ঝাঁক উড়ে গেলে

ভাবিও তুমি আর তোমরা সবাই মিলে

আমিও আছি তাদের সাথে

শীতের শিশিরে তাকিয়ে দেখো

আমি আছি মুক্তোর মতো তোমার মনে মাঝে

বৃষ্টি হয়েও আমি বার বার আসবো আমি

তোমার ঘরের ছাদে

মনে হবে তোমার আমি কেমন যেনো

গুন গুন গাণ ধরেছি বৃষ্টির নুপুরের তালে তালে।

কখনও ভেবোনা কেউ আমি কোথাও নেই

আছি আমি ভাল করেই আছি

চোখের বাইরে তোমার অন্তরে

প্রভুর সৃষ্টির পরতে পরতে

সকাল দুপুর সন্ধ্যায় দেখতে পাবে আমার

শরত কিংবা হেমন্তে

শীতে অথবা বসন্তে

বর্ষায় আর গ্রীষ্মে।

আমি আছি

আমি থাকবো

প্রভুর সৃষ্টির মাঝে মিলে মিশে

মানুষ না হয়ে ফুল পাখি বৃক্ষ

না হয়

মাছেদের ঘরে ঘরে।

নাই কোন ক্ষমা

আমি জানি আমার অবাধ্যতার হিসাব

আমি জানি আমার অপরাধের কোন শেষ নেই

নাই কোন ক্ষমা

হাজার চেষ্টা করেও আমি সোজা পথে চলতে পারিনা

এক ষোড়শী তরুণী এসে প্রতিদিন দাঁড়িয়ে থাকে

আমার সদর রাস্তার মাঝখানে

চোখের ঈশারায় বলে প্রেমই আসল

আমার কাছে আসো আমি তোমায় সুখ দেবো

ভালবাসা দেবো,যা কেউ পারেনা দিতে

আমি সুন্দর ,তুমি সুন্দরের পূজারী হও

দেখবে তোমার জীবন স্বর্গ হয়ে গেছে।

আমিতো যাবো তোমার কাছে

তোমার ঠিকানা আমি জানি,ভাল করে জানি

সোজা সরল পথের ঠিকানাও আমি জানি

শুধু বুঝতে পারিনা

দুনিয়ার হুরপরীদের ফেরেববাজি

সুন্দরীর বহুরূপী খেলতামাশা

দুনিয়া বলে কানে কানে

নগদ যা পাস হাত পেতে নে

দূরের বাদ্য লাভ কি শুনে।

এই দেখ,পর্দা দিলাম তুলে

আয় ভিতরে আয়

দেখ দেখ স্বর্গ কোথায় আর তুই কোথায়

যখন বলে আমি তোমার কাছে যাবো

দলবেঁধে ওরা সবাই বলে

তোমার সেতো পালিয়ে যাচ্ছেনা

আমাদের সাথে কিছুক্ষণ থাকো

দেখবে জগতটা কেমন বেহেশত

হয়ে গেছে

এভাবেই আমি রোজ তোমা থেকে বিচ্ছিন্ন থাকি

আমার সকাল সন্ধ্যা পার হয়ে যায়

রাত আসে দিন চলে যায়

তবুও পৌঁছাতে পারিনা তোমার ঠিকানায়

বলো প্রিয়তম এমন প্রেমিকের কি

কোন ক্ষমা আছে ?

জানি আমি মোনাফেক প্রেমিকের চেয়ে

শয়তান অনেক ভাল

সেতো কখনও শিরক করেনা

সে ছিল শুধু একজন মহা অহংকারী

আর আমি জানি এ সৃষ্টি জগতে

শুধু তুমিই একমাত্র অহংকারের মালিক।

দেখা হবেই একদিন

সবখানেই আছো তুমি

তবুও কোথাও নেই

মনে হয় এই আছো

এই নাই।

ক্ষণে ক্ষণে পলে পলে

মনে হয়

তোমার শব্দ শুনি

এইতো এক্ষুনি তোমার গলা

কানে ভেসে এলো।

একাকী হলেই তোমার

পায়ের আওয়াজ শুনি

হয়ত তুমি আছো এখানে কোথাও

তুমি দেখছো আমাকে

দু:খ  হলো আমি তোমায় দেখতে পাইনা।

আমিতো ভাবছি তোমায়

তুমি ভাবছো কিনা জানিনা

তুমি আছো আমার কাছেই

হয়ত মনে হয়ত বুকে

হয়ত দেহে হয়ত দেহের বাইরে

আমি আছি কিনা জানিনা।

না দেখা আর না জানার মাঝে

আর কতকাল ডুবিয়ে রাখবে

এই আমাকে

আমি জানি একদিন দেখা হবেই

তোমার সাথে এই আমার।