আমার অদৃশ্য সত্তার কাছে

আমার অদৃশ্য সত্তার কাছে / এরশাদ মজুমদার

আমি আমাকে খুঁজে বেড়াই
কোথায় আমি
কি ফারাক দৃশ্য আমি আর অদৃশ্য আমাতে
দিক থেকে দিগন্তে
পুব থেকে পশ্চিমে
উত্তর থেকে দক্ষিণে
আকাশ থেকে পাতালে ঘুরে বেড়ায়
আমার অদৃশ্য সত্তা
আর আমি তাকেই খুঁজছি জন্মাবধি
একঠায় এখানে এই ভুগোলে মাটিতে দাঁড়িয়ে
এই দেহের তেমন কি ক্ষমতা আছে
স্থান থেকে মুক্তি লাভের
ভেবে পাইনা কেন প্রভু আমায় বেধে দিলেন
সীমাবদ্ধতার বেড়াজালে।
মন দিলেন
হৃদয় দিলেন
আর দিলেন ভালবাসার সাগরে ডুবে যেতে
এই মনই আমাকে না জানিয়ে ভেসে বেড়ায় ওই আকাশে
গ্রহের এ সীমান্ত থেকে
ওই সীমান্তে
তবু আমি তাকে খুঁজে বড়াই
তবু আমি অবিরাম আমাকেই খুঁজছি
রাত নেই দিন নেই
সকাল নেই সন্ধ্যা নেই
নেই কোন মৌসুম বা ঋতু
ঝড় আসুক
ঝঞ্জা আসুক
বজ্রপাত হোক
সুনামী হোক
আমার কোন বিরাম নেই
আমি আমার খোঁজে পথ অতিক্রম করছি
তবুও আমি পারিনি নিজের সীমাকে নিজে অতিক্রম করতে
জানিনা কখনও পারবো কিনা
জানিনা প্রভু আমাকে তেমন ক্ষমতা দিবেন কিনা
আমিতো প্রভুর ইচ্ছায়
বন্দী হয়ে আছি
সময় ও স্থানের কারাগারে
যা আমি বুঝতে পারি
অনুধাবন করতে পারি
কখনই ছুঁতে পারিনা
সত্যিই বলছি তোমাদের সবাকে
দৃশ্যমান আমি
বড়ই দূর্বল
বড়ই লাচার
বড়ই মাজুর
বড়ই কাতর
অদৃশ্য আমার কাছে
যার সাথে প্রেম আছে
খোদার অসীম সাগরে
আমার ভিতরে
আমার সাথে থেকেও
আমার সাথে নেই।

সত্যের কবর দেখো জগতবাসী

সত্যের কবর দেখো জগতবাসী / এরশাদ মজুমদার

সত্যের ধারে কাছেও যেওনা
সত্যের শরীরে আগুন আছে
সারা জীবন জনিজ্বলে মরছে
অন্যকেও মারছে
সত্যের সাথে থাকলে তোমাকে মরতে হবে
যদি বেঁচেও থাক
সারা জীবন কয়েদী হয়ে থাকতে হবে
খোদা বলছে সত্য বলো
নবী বলছে সত্য বলো
মা বলছে সত্য বলো
ভাবা বলছে সত্য বলো
জ্ঞানীরা বলছে সত্য বলো
তারা সবাই বলতে পারে
তাদের কারো প্রাণের মায়া নেই
তারা শহীদ হতে চায়
যেমন শহীদ হয়েছে
রফিক বরকত সালাম জাব্বার
যেমন শহীদ হয়েছে
শের আলী খান
তিতুমীর ক্ষুদিরাম সুর্যসেন
হাজার আলেম ওলামা।
সত্যকে ভালবাসলেই তোমাকে মরতে হবে
তোমার ফাঁসী হবে
তোমার হাতে পায়ে ডান্ডাবেড়ি পরবে
চিরজীবন তুমি সালাজারের কয়েদ খানায় থাকবে
তুমি যদি জ্ঞানী হও
তাহলেও মরতে হবে
বিষাক্ত রস পানে তোমাকে হত্যা করা হবে
যেমন বিষ পান করেছেন
জগতের শ্রেষ্ঠতম জ্ঞানী
প্রিয় সক্রেটিস
ইমাম হানিফা
ইমাম হাম্বল
ইমাম মালেক
আর খোদার কবি
মনসুর হাল্লাজ।
সত্য বলে কে কোথায় রক্ষা পেয়েছে বলো
নবীজীর কথা ভাবো
ভাবো হিজরতের কথা
মুসার কথা ভাবো
ভাবো ঈসার কথা
তাঁরাতো নবী রাসুল ছিলেন
জানি তুমি বলবে আমি তাদের উম্মত
খোদার খলিফা
আমার কালবে আছে
খোদায়ী নুর
জগত আলোকিত করার জন্যে
হে ফোরাউন নমরুদ সাদ্দাত তাগুত
আমাকে হত্যা করো
আমাকে টুকরো করো মনসুরের মতো
আমাকে বন্দী করো লোহার বেড়ি দিয়ে
ইমাম আবু হানিফার মতো
আমাকে জ্বালিয়ে দাও মনসুরের মতো
হে জালেমেরা
তোমাদের সত্যের আগুনের মোকাবিলা করতেই হবে
যতই তুমি নব্য ফেরাউন
আর মালাউনের পিছো ঘোরো
তোমার মুক্তি নাই
তোমার তখতে আগুন লাগবেই
শাপলার নীচে কান পেতে শোনো শত শত প্রাণের আওয়াজ
ওদের হাতে কোন অস্ত্র ছিলনা
শুধু ছিল নুরের তলোয়ার
স্বয়ং খোদাই সেই নুর ছড়িয়ে দিয়েছেন তাদের রূহের ভিতর
তুমি জালেম আর মহা জালেমের দোসর বলে বুঝতে পারোনি
সেই নুরের জ্যোতি
কেমন করে বুঝবে তুমি তেমন নুরের আহবান
তোমারতো সবই গেছে
চোখ কান অন্তর
আমি এক ভিতু কবি সত্যের ভয়ে পালিয়ে থাকি
আলো ছেড়ে অন্ধকারে
আমি আমার সত্যকে ঢেকে দিয়েছি গভীর অন্ধকারে
আমি বলছি বাংলাদেশ থেকে
এখানে কখনই সত্যকে খোঁজিওনা জগতবাসী
এই যে দেখো
ভালো করে দেখো সত্যের কবর
শয়তান এখানে লাল সালু দিয়ে মাজার খুলেছে
ভবনে ভবনে আর মর্মর পাথরে।

শাসন করো দমন করো

শাসন করো দমন করো
খুব কঠিন ভাবেই শাসন করো
ক্ষমতা যখন আছে তোমার হাতে
তোমার হাতে আছে সৈনিক বিজিবি রেব পুলিশ ও আনসার
তোমার কিসের ভয়
ভয় পেলেইতো তুমি ভিতু হয়ে যাবে
যেভাবেই পারো ক্ষমতাকে তোমার দখলে নাও
অনুগত করো
অবনমিত করো
শাসকের শোভা পায়না বিবেচনা করা
কে মেজরিটি
কে মাইনরিটি
তোমাকে অবশ্যই মনে রাখতে হবে তুমিই শ্রেষ্ঠ
তুমিই মহান
তোমার দয়ার শেষ নেই
তুমি তোমার জানমাল নিবেদন করেছো
উত্‍সর্গ করেছো
দান করেছো
শুধুই মানুষের জন্যে
মানবতার জন্যে
বলতে থাকো
একবার নয়
হাজার বার নয়
বার বার অবিরাম
শুনতে শুনতে মানুষ ভাববে সত্যিই তুমি মহান
তোমার তুলনা নেই এই জগতে।
শাসন করো দমন করো
ভুলে যেওনা
হিটলারের কথা
মুসোলীনীর কথা
মার্কোসের কথা
সালাজারের কথা
দক্ষিণ আফ্রিকার সাদাদের কথা
কাশ্মীরের কথা
যে যতই মেজরিটি হোক
তোমার তাতে কিছুই আসে যায়না
দৃঢভাবে বিশ্বাস করবে তুমি জন্মেছো
শুধু শাসন করার জন্যে
জগতের সকল শক্তিইতো তোমার পদতলে
রাস্ট্র তোমার অনুগত
কবি শিল্পী সাহিত্যিক বুদ্ধিজীবী শিক্ষক আলেম ওলামা
সবইতো তোমার কুর্সীর খুটির নীচে
ওই দেখো দেখো
কেমন করে ওরা হাসিমুখে তোমাকে কুর্ণিশ করছে
তুমি তোমার দমনকে আরও কঠোর করো
দেখবে সবাই ফুল নিয়ে লাইন করে দাঁড়িয়ে আছে
তোমার মখমল সুরত দেখার আশায়
তুমি খুব মোলায়েম করে মিথ্যা বলো
দশ মিনিটে তুমি সব খতম কর দাও
তুমি লাশ গোপন করে দাও
তোমার দয়া ভরা হৃদয় যা চায় তাই করো
ইতিহাসবিদদের ডেকে বলো
তোমার ইতিহাস লিখতে
সত্য ইতিহাস
যারা কথা বলবে তারা দেশদ্রোহী
তাদের মুখ সেলাই করে দাও
যারা লিখবে তাদের হাত ভেংগে দাও
উদাত্ত কণ্ঠে ঘোষণা করে দাও
তোমার উপরে কোন সত্য নাই
তুমিই মহা সত্য
তুমি আকবরের মতো
দ্বীনে ইলাহী লেখো
তুমি বলো বলো দরাজদিলে বলো
তুমিই ঈশ্বরের ছায়া
তুমিই সত্যের কায়া।

তোমাদের রেখে গেলাম খোদার হাতে

প্রিয়তম বন্ধু রহীমা
আমার এ চিঠি তোমার কাছে পৌছাবে কিনা
তোমার সাথে আমার আর দেখা হবে কিনা তাও জানিনা
পাঁচই মে গহীন রাতে
আমি আটকা পড়েছিলাম শাপলা চত্বরে
সব বাতি নিভে গেলে আমি এক বন্ধুর সাথে
সেখানেই অবস্থান করি
প্রবল ইচ্ছা ছিল বড় হুজুরের সাথে দেখা হবে
তাঁর দরাজ কণ্ঠের কথা গুলো শুনতে পাবো
আমি বেশ কিছুদিন তাঁর খেদমতে ছিলাম
তারপরে চলে আসি কলেজে
তারপরে বুয়েটে
ক’দিন পরেই লেখাপড়া শেষ হবে
ফিরে যাবো গ্রামে
ফিরে পাবো তোমাকে রহীমা।
তোমার বাবা বলেছিলেন
ছেলে ডাক্তার বা ইঞ্জিনিয়ার না হলে চলবেনা
তুমিতো ভালই জানো
তোমাকে পাওয়ার জন্যে আমি সবকিছু করতে পারি
অর্থবিত্ত সামর্থ না থাকলেও
মা’র শেষ সম্বল জমিটাও বেচে দিয়েছি
বুয়েটে পড়ার জন্যে
প্রিয়তম বন্ধু রহীমা
সে রাতে যা ঘটেছে তা বিশদ বলার জন্যে
আমার হাতে আর সময় নেই
আমি রাজার কোতোয়াল পাইক পেয়াদা গোলন্দাজদের
অনেক বুঝিয়েছি
বলেছি আমি একজন ইঞ্জিনিয়ার
এখানে এসেছি বড় হুজুরকে এক নজর দেখার জন্যে
ওরা কোন কথাই শোনেনি
আমার একমাত্র অপরাধ
আমার দাড়ি টুপি ছিল
পরণে ছিল সালোয়ার কুর্তা
কপালে ছিল দাগ।
অন্ধকারে কিছুই বুঝতে পারিনি ওরা কারা
চারিদিকে গগণ বিদারী আর্তনাদ
হে আল্লাহ,তুমি আমাদের রক্ষা করো
কেউ কেউ তখনো বলছিলো
সাথীরা ভয় পাবেন না
আমরা জেহাদের ময়দানে আছি
ঈমানের পরীক্ষা দিন
না, আমার তেমন ঈমানের শক্তি ছিলনা
শুধু তোমার মুখ মনে পড়ছে
শুধু আমার দু:খিনী মায়ের চেহারা ভেসে আসছিলো
শুধু তোমার ভালবাসাই আমাকে পালবার কথা বলছিলো
আমি ষত্যিই পালাবার পথ খুঁজছিলাম
এমন সময় এক ভয়ংকর আওয়াজ হলো
চারিদিকে গুলির শব্দ
আমি বেহুঁশ হয়ে গেলাম
সামান্য হু্ঁশ এলে দেখলাম আমি এক অজানা হাসপাতালে
শুধু চোখ মেলে চারিদিক ঝাপসা দেখছিলাম
কোথাও কেউ পরিচিত নেই
পাশে নাই প্রিয়তম রহীমা
চির জনমের দু:খী আমার মা আম্বিয়া খাতুন
আমি চলে যাচ্ছি ধীরে ধীরে
কোথায় জানিনা
শুধু যাচ্ছি আর যাচ্ছি
তোমরা দেখো আমার প্রিয় মাতৃভূমিকে
তোমার আমার সবুজ বাংলাকে
তোমাদের রেখে গেলাম খোদার হাতে
খোদা হাফেজ

প্রাণ বড় না অংক বড়

প্রাণ বড় না অংক বড়
একটি প্রাণ অংকে এক
মনে হয় খুবই কম খুবই কম
কত হলে ভাল
শত প্রাণ
হাজার প্রাণ
লক্ষ প্রাণ
চলছে হিসাব
চলছে নিকাশ
কত ধানে কত চাল হয়।
সরকার বসে হিসাব কষে
পুলিশ বলে
বিজিবি বলে
বুদ্ধিজীবী বলে
তেমন কি আর
সাভার থেকে শাপলা চত্বর
ঢাকা থেকে বগুড়া
টেকনাফ থেকে তেতুলিয়া
শুধুই হিসাব
এক দুই তিন
শত অথবা হাজার
লাখ অথবা কোট
মা কান্দে বাপ কান্দে
কান্দে সোদর বোন
আরও কান্দে হাজার গ্রাম
বুকের মানিক
সাত রাজার ধন
কোথায় গেলি মা
জিন্দা আয় মুর্দা আয়
তবু আয়রে মা।
শাপলায় মরে গাঁয়ের হুজুর
নাইরে তার লাশ
সাভারের কিস্সা শেষ হয়েছে
কান্নার হয়না শেষ
মিলবে হিসাব এইতো এখন
এইতো মিলেনা
শাপলার হিসাব মোটেই মিলেনা
আরও আছে হাজার হিসাব
মিলবে আখেরাতে
রাজার হিসাব
প্রজার হিসাব
মন্ত্রীর হিসাব
শান্ত্রীর হিসাব
পুলিশ হিসাব
ঠুলির হিসাব
গুলির হিসাব
সবই মিলবে সেদিন
আসছে সেদিন ধেয়ে
সাত আসমান
সাত পাতাল
সাত সমুদ্র
ফুঁড়ে বেরিয়ে আসবে সত্য হিসাব সেদিন
ভুল হিসাবী
মিথ্যাবাদী বুঝবে তুমি সেদিন।

একজন শান্তিবাদী দেশ প্রেমিকের গল্প

একজন শান্তিবাদী দেশ প্রেমিকের গল্প / এরশাদ মজুমদার

চারিদিকে মহাকষ্ট আর বেদনা গুলো
দাঁত বের করে খিল খিল করে হাসছে
যতই পুলিশ গুলি মারুক
যতই মহামন্ত্রী শান্ত্রীরা মিথ্যা বলুক
যতই মাস্তান ছিনতাইকারী
আপনার সম্পদ লুণ্ঠন করুক
আপনার মেয়েকে তুলে নিয়ে যাক
আপনার ছেলেকে অপহরণ করে মুক্তি পণ চাক
আপনার কি করার আছে?
আপনিতো একজন উচ্চ শিক্ষিত ভদ্রলোক
আপনিতো নির্ঝঞ্জাট শান্তিপ্রিয় একজন দেশপ্রেমিক
জগতের কোন ঝামেলাই
আপনার ভাল লাগেনা
আপনি চুপচাপ নিরিবিলি
পরিবার পরিজন নিয়ে কোন ভাবে বেঁচে থাকতে চান
এসব কারণেই
একাত্তুরে মুক্তিযুদ্ধে যেতে পারেননি
অন্তরে আপনি কিন্তু আপনি একজন মহা মুক্তিযোদ্ধা
আপনার আছে একশ’ভাগ খাঁটি চেতনা
আপনার ভাষণ শুনে মনে হয়
আপনার হাতে আছে একে ফোরটি সেভেন
আপনার লেখা পড়ে
তাবত দেশবাসী ফোন করে মেইল করে ধন্যবাদ জানায়
প্রধান অতিথি না হলে আপনি এখন সেমিনারে যান না
সাভারকে নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর প্রশংসায়
আপনার অনলাইন লেখার শত শত ধন্যবাদ পেয়ে
আপনি বিনয়ে মুচকি হাসেন
আর বন্ধুদের সাথে মুক্তিযুদ্ধের রক্তক্ষরা দিনের গল্প করেন
পুলিশের প্রশংসা করে
সেদিন বিশেষ পদক পেয়েছেন
শাপলা চত্বরের গহীন রাতে পুলিশের ভুমিকায়
প্রধানমন্ত্রীর অবদানের জন্যে
শান্তির পদক প্রার্থনা করেছেন জাতিসংঘের কাছে
আপনি বলেছেন এমন কৌশলী শান্তির কারুকাজ
জগতের কোন প্রধানমন্ত্রী পারেনি।
হে প্রিয় শান্তিবাদী দেশপ্রেমিক
আপনি শেষ পর্যন্ত পুলিশের শান্তিপূর্ণ ক্রসফায়ারে
বেওয়ারিশ লাশ হয়ে গেলেন
প্রিয়জন কেউই গেলনা লাশটা শনাক্ত করতে
আপনি প্রিয় এই মাতৃভুমির মাটিতে
শান্তিতে থাকুন
যেমন শান্তি আপনি সারা জীবন চেয়েছেন।

হে মানুষ,বিপ্লবই তোমার ফিতরাত

কণ্ঠ নয় তোমার শব্দকে আকাশে তোল
বৃষ্টিতে ফুল ফোটে
বজ্র নিনাদে নয়।( মাওলানা রুমী )

হে মানুষ
তুমি ফুল ফোটাও
খোদার শব্দ দিয়ে।( রুমী পাগল এরশাদ )
_______________________________________________

হে মানুষ,কথা বলো
কথাই তোমার পরিচয়
শব্দই তোমার পরিচয়
শব্দই ব্রহ্মা
শব্দই প্রভু
শব্দই খোদা।
কলম কিতাব কথা আণ কবিতা
সবইতো আমার প্রিয়তম প্রভুর দান
যার কথা নাই ,শব্দ নাই
যার বানী নাই
সেতো আর মানুষ নয়
বাণীইতো মিলন ঘটায় তোমাতে প্রভুতে
আর আমাতে।
খোদা কথা বলেন তোমাতে আমাতে
সকাল সন্ধ্যা, রাতদিন অহর্ণিশ
হয়ত তুমি বুঝতে পারোনা
হয়ত তোমার তেমন হৃদয় নেই
নেই তেমন কোন বোধ শক্তি
তুমি আসলেই মানুষ কিনা একবার ভাল করে ভাবো
ভাবতে থাকো
শুধুই ভাবতেই থাকো কেমন করে প্রভুর খেলা
চলছে তোমার ভিতর।
হে মানুষ
যদি সত্যিই তুমি নিজেকে মানুষ ভাবো
যেমন মানুষের কথা
প্রভু বলেছেন বার বার করে আলোর কিতাবে
তিনিই বলেছেন
দেখতে মানুষের মতো হলেই সবাই মানুষ নয়
অনেকেই আছে পশুর চেয়ে অধম
ওদের হৃদয় নেই
চোখ থাকলেও ওরা দেখতে পায়না
কান থাকলেও ওরা শুনতে পায়না
আলো দেখলে ওরা অন্ধকারে ছুটে যায়
এমন দু পায়া প্রাণীর কাছ থেকে দূরে থাকো
নিজের আত্মাকে বুলন্দ করো
নিজের মাথা আকাশ ছুঁয়ে দাও
নিজের শব্দকে সাত আসমানে পাঠিয়ে দাও
বলো , আসমান জমিন কাঁপিয়ে বলো আমিই সেই মানুষ
যার কথা বলেছেন কিতাবে কিতাবে
বলো বলো আমিই সেই নুর
যে নুরের জ্যোতিতে সকল অন্ধকার জুলমাত
দূর হয়ে গেছে
খোদার দুনিয়া থেকে
জালেম ধ্বংস হয়েছে
যেমন হয়েছে ফেরাউন নমরুদ সাদ্দাদ।
হে মানুষ বলো
বিদ্রোহ করো, বিপ্লব করো
বিপ্লবই তোমার ফিতরাত
উচ্চ কণ্ঠে বলো
বাংলার জালেমেরা হুঁশিয়ার
খোদার ফরমান জারী হয়েছে দিকে দিকে চারিদিকে
নুরের আলোর মতো সবদিক আলো করে
মিথ্যার দোসর,জুলুমের বাদশাহ এবার ডুবে মরো
বাংলার শান্ত সাগরে।