বিচ্ছেদ ও দু:খ প্রেমিক

যাবার কথা ছিল তাই তুমি চলে গেছো

মাঝে যে কটা দিন তুমি আমি আমরা

এক সাথে ছিলাম হাসি আনন্দে বেদনায়

বেশ ভালোইতো কম কি এমন এই সময়টা

এত কম সময়ে তুমি অনেক করেছো

যা করতে পারেনা অনেকেই হাজার বছরেও

তবুও আমি ও আমরা সইতে পারিনা এই বিচ্ছেদ

আমাদের মন জানেনা সময়টা কি এবং কেন

মন চায় আরও কিছুক্ষণ আরও কিছুটা সময়

কেটে নিতে স্বল্পায়ু সময়ের সীমান্তে বসে।

যতই বলো তুমি মহাজন মহারাজা সময়কে

পারবেনা তুমি বন্দী করতে কয়েদীর মতো

তুমিতো ভাবোনা তুমিতো জানোনা সময় কেমন

তাইতো দেখি বিচ্ছেদে সবাই কেমন কাতর হয়।

আসলে আমরা সবাই বিচ্ছেদ ও দু:খ প্রেমিক

আসল প্রেম কোথায় আছে জানেনা বলেই এমন হয়।

প্রভুর বাগান

তুমি যেদিন প্রথম আমায় আমন্ত্রণ জানালে তোমার শয্যায়

আমিতো কিছুই বুঝতে পারিনি  কেন এই অজানা  আমন্ত্রণ

এর আগে এমন শয্যা দেখিনি কখনও এ জীবনে আমার

তুমি ইশারায় বললে, জগতের স্বর্গ এইতো এখানে দেখো

প্রভু আমাদের দয়া করে দিয়েছেন এমন স্বর্গ এই জগতে

যেমন দিয়েছিলেন আমাদের পিতাকে স্বর্গের ভিতরে আরেক স্বর্গ

আমাদের প্রভুই জানেন মাটির এ স্বর্গে কি রহস্য লুকিয়ে আছে

তুমিতো আমার জ্যোতিময় স্বর্গ থেকে আসা বিস্ময়ে ভরা এক পুতুল

একেই বলে ফিতরাত, তোমার আমার ভাগ্য ওই ফিতরাতে বাঁধা

এবার আসো তুমি প্রভুর এ জমিতে বলবান এক কঠিন লাঙলের মতো

নেমে আসুক বসন্ত আর ফুলে ফলে ভরে উঠুক প্রভুর শ্যামল বাগান।

খোদা আমাকে অনেক বেশী ভালবাসেন

মাঝে মাঝে মনে হয় সাত আসমান সাত সমুদ্র

যদি আমার কথায় চলতো তাহলে কেমন হতো

সূর্য আর চাঁদের আলো আমার বৈঠক খানায় বসে

আমার অপেক্ষা করছে আমার হুকুম নিবার লাগি।

আমি যদি এ রকম ভাবি, ভাবতেইতো পারি

জগতের বুকুব মানুষ গুলি কি ভাবতো আমি

খোদাই দাবী করছি খোদার তস্য গালাম হয়েও

এসব মানুষতো ছুতা পেলেই ভাল মানুষ গুলোকে

কাফের মোশরেক বলে গালা গাল দিতে এক পলকও

দেরী করেনা, মনে হয় তারা সকাল সন্ধ্যা সদা প্রস্তুত

থাকে যে কোন ভাল মানুষকে খোদার দাবীদার বলে

ধরিয়ে দিতে, সত্যি বলতে কি খোদা তাদের কোন কাজ

দেয়নি। অথচ এরাই নাকি জগতের বহু কল্যাণ করেছে।

আমিতো বিনা কারণে আমার খোদাকে ভয় পাইনা। তিনিতো

আর ওসব বাজে লোকদের মতো নন। আমি গভীর ভাবেই

জানি খোদা আমাকে সবার চেয়ে অনেক বেশী ভালবাসেন।

ক্ষমা করে দাও আমাদের সবাকে

তুমিইতো  আমার পিতাকে  বলেছিলে এখানে থাকো আদনের উদ্যানে

 সাথী এক দিয়েছিলে  সাথে মহা আনন্দে দু:খহীন  জীবন কাটাতে

বলেছিলে  রাতদিন ‘আমাকে স্মরণ করো আমিও তোমায় করবো স্মরণ

 আর মনে রেখো ভুলেও কখনও শুনোনা ওই অভিশপ্ত শয়তানের কথা

খবরদার ! কখনও যেয়োনা ওই ফলবান বৃক্ষের কাছে একবার ভুলেও।’

আমি জানি তুমি খুবই ভালবাসতে বাবাকে তাই বলেছো অমন কথা

আর দেখছিলে বসে বসে জগতের শ্রেষ্ঠতম সিংহাসনে বসে মুচকি হেসে

ভাবছিলে আপন ভাবনার সাগরে ডুবে ‘দেখি আদম কি করে এখন

এটা ছিল তোমার আশেকের আশেকীর প্রথম ইমতেহান ভালবাসার।

তুমি জানতে বাবা আমার কখনই পারবেনা মানতে তোমার নির্দেশ

সত্য হলো এই ইনসান হলো মাটির তৈরি মাটির খাচালত নিয়ে

তাইতো তুমি নিজ গুণেই ক্ষমা করে দিলে আমাদের প্রিয়তম পিতাকে

আর পাঠিয়ে দিলে মাটির পৃথিবীতে নানা কাজে খেটে খুটে ফসল ফলাতে।

আমরাও তাই আছি এখানে দিনরাত শয়তানের হামলা আর মহা উসকানিতে

কেন  ঠেলে দিলে  তুমি আমাদের মতো নিরীহ গোলামকে শয়তানের মুখে

শত চেস্টা করে দেখেছি তোমার জিকিরে মশগুল হতে যেমন বলেছে তুমি

না পারিনা আমি বেহায়া বেশরম শয়তানের সাথে নিজ গুণে টেক্কা দিতে

তোমার দয়ার মহা ভিখেরি আমি, রক্ষা করো তোমার শয়তানের হাত থেকে

আমার পরাজয় মানে তোমার প্রেমের পরাজয়, যা তুমি কখনও কোনদিন চাওনি।

চোখ দুটো আমার তুলে নাও তুমি

আমার এ দু’চোখ তুমি উপড়ে নিলেও আমি বলবোনা কিছু কখনও

অমন চোখে আমার কি কাজ বলো যে নিজেকেই দেখতে পায়না

তুলে নাও তুমি এমন মাতাল চোখ যে নেশার ঘোরে বিভোর থাকে

নরম গরম আদর করে, যেমন করেই তোল তুমি আমি ব্যথা পাবোনা।

যে চোখে দেখতে রাতের আলো আর দিনের সূর্য লাগে তাতে আমার কাজ নেই

আমি ভালই আছি, থাকবো ভাল তুমি যদি উপড়ে ফেল এমন মাতাল চোখ

আমার তৃতীয় নয়ন অন্তর চক্ষু খোলে দাও তুমি আমি যেন আমায় দেখতে পাই

তোমার নরোম আলোয় আলোয় আলোকিত করো চক্ষুহীন এই আমায়।

এখন থেকে আর আমি দেখবোনা কিছুই  শুধু তুমি ছাড়া এ জগতে

থাকো তুমি আমার অন্তর জূড়ে আলোর জগতে অন্তর আলোকিত করে

মাতাল চোখ দুটো  জগত পাগল , ওই চোখে আমার কি কাজ বলো

তুমি থাকো আমার অন্তর বাহির জুড়ে, লোকের কথায় ভুলবোনা আমি।

তেমন অবাধ্য আমি হতে পারিনা।

সত্যি কথা বলতে কি

আমি কখনই নিয়ম করে চলতে পারিনা

অমন করে চলতে তুমিইতো আমাকে শিখিয়েছো

তুমি যদি চাইতে আমি নিশ্চয়ই

এমন অনিয়মের জীবন কখনই যাপন করতাম না।

তুমিতো আমার সাথে আমার মাঝেই আছো

রাত দিন সকাল সন্ধ্যা দুপুর শীত গ্রীষ্ম

আমিতো এক পলকের জন্যেও কখনও কোনদিন

তোমার চোখের বাইরে যাইনি

সবার চেয়ে সবচে বেশী জানো তুমি

আমার ভিতর ও বাহির ।

তাহলে আমি কি এমন  করতে পারি

তোমার হুকুমের বাইরে?

না, কিছুই করতে পারিনা

সত্যিই বলছি আমি , তেমন অবাধ্য আমি

কোনদিন কখনই হতে পারিনা।

  • দিনপন্জী

  • খোঁজ করুন