ছড়া

একদিন আমি হবোই বড়

বাবার মতো মস্ত

দেখবে সবাই আমায় এসে

ইয়া বড় দস্ত।

আমি এখন সত্যি বড়

সবার আগে যাই

আমের দিনে হাজার আম

এক নিমেষে খাই।

বাবা বলে এই যে দেখো

কে যে থাকে অমন সুখে

হেসে কুটি খান খান

সবাই দেখে এ যে আরশান।

বনের রাজা সিংহ আসে

বন্ধু হবে তার

বাঘ বলে আমিও হবো

আরশান যে সবার।

আরশান আঁকে রঙিন ছবি

হাজার রংয়ের মেলা

ছবি নিয়ে খেলবে সবাই

নানা রঙের খেলা।

 

কবিতা নাইবা হলো

কবিতা হয় কি হয়না তা নিয়ে আর আমি ভাবিনা

 বলতে চাই যেমন করেই হোক যা কখনই বলতে পারিনা

আর কতকাল কবিতা নিয়ে ভাববো হয় কি হয়না

আসল কথা বলাইতো আসল কবিতা হোক বা না হোক

মোটেই না হোক কবিতা করবোনা আর কখনই শোক।

আমি বলতে চাই কবিতাহীন কিছু কথা অনেকদিনের জমা

না বলার অপরাধের জন্যে নিজেকে  করবোনা কখনও ক্ষমা

পদকের আশায় খেতাবের  লোভে  দিনতো আমার শেষ হয়ে গেল

সত্যকে লুকিয়ে রেখে মিথ্যার বেসাতি করে দিনগুলো সব এলোমেলো।

কবিতা নাইবা হলো কবির খেতাব নাইবা পেলাম আর

রাজ কোতোয়াল পরাক আমায় হাতকড়া  আর করিনা ডর

সকল গোমর ফাঁস করে দেবো ফেঁসে যাক যত আপন পর।

কবিতা নাইবা হলো নাইবা হলাম পোষা কবি বড়ই নাদুশ নুদুশ

সোনার বাংলার রাজারা সব মানুষ খেকো হয়ে গেছে বড় রাক্ষস।

তোমরা ফিরে এসো

হে, আমাদের প্রিয় সন্তানেরা

তোমরা যেখানে আছো

তারা অস্ত্রের ভাষায় কথা বলে

শান্তি নয়, তারা যুদ্ধকে ভালবাসে

তারা জীবনের  চেয়ে মরণকে ভালবাসে।

হে আমাদের প্রিয়তম সন্তানেরা

তোমরা ফিরে এসো

আমাদের এ সবুজ শ্যামল দেশে

তোমাদের জন্যে আছে স্বর্গের মতো আবাস

আর আছে শান্তি ও আনন্দময় জীবন।

সদা হাস্যময় বহতা নদীতে আছে

রূপালী মাছের আহবান

নৃত্যরত সবুজ মাঠে আছে

সোনালী ফসল

তোমার দাদীর নকশী কাঁথা

তোমাদের জড়িয়ে দেবে উম

কঠিন শীতের রাতে

মনে হবে তুমি শুয়ে আছো

চির চেনা মায়ের কোলে।

হে আমাদের সন্তানেরা

এবার তোমরা ফিরে এসো

বাউলেরা গাইবে গাণ

তোমাদের আগমনে

তোমরা ফিরে এসো

স্বপ্নভরা এই দেশের

মানুষের কাছে।

( আমার লেখা ‘ কাম ব্যাক হোম’ ইংরেজী কবিতার বাংলা অনুবাদ )

আমি ও আমার মন

পাখি পাখি মন আমার উড়ে উড়ে যায় অজানা অচেনায়

আর আমি দাঁড়িয়ে থাকি এক বিন্দুতে একঠায়

আমাতে আর আমার মন নেই, কেন যে চলে যায়

এতটুকুও বলেনি আমায় কোনদিন  কখনও নিজের ইচ্ছায়।

আর আমি পড়ে থাকি এখানে স্বেচ্ছায় বা অনিচ্ছায় বড়ই একাকী

পরবাসী মন কখন যে আসবে ফিরে এই আমাতে সে আশায় থাকি

নিজের মনের সাথে  এমন আড়াআড়ি কেউ কখনও দেখেনি

বন্ধুদের আজ আমি জানিয়ে দিলাম এই মন কোনদিন শোনেনি

 জীবন ভর আমার সাথে থেকেও মনে হয় থাকেনি কোনদিন

তবুও হবেনা শোধ  মনের কাছে সারা জীবনের আমার যত ঋণ ।

 

মেঘ এসেছিল কাল জানালার কাছে

মেঘ এসেছিল কাল জানালার কাছে কি যেন বলতে

আমিও দাঁড়িয়ে ছিলাম একঠায় জানালার পাশে

এত কাছাকাছি এর আগে কোনদিন আমি মেঘকে দেখিনি

কথা হলো দু’জনার ,অনেক কথা যা কোনদিন হয়নি বলা।

অবাক হয়েছি আমি নিজের কাছে নিজেই কথার ফুলঝুরি দেখে

এতদিন এত কথা কোথায় লুকিয়ে ছিল জানতে ইচ্ছে হলো

মেঘ বললো ,এমনিই হয় মানুষের আপন কাউকে কাছে পেলে

এবার বলোতো তুমি কেন একঠায় দাঁড়িয়ে ছিলে জানালার পাশে

আমি অনেক ভাবলাম, অনেকটা সময় নীরব রইলাম

কোন উত্তর পেলাম না খুঁজে নিজের কাছে বা নীরবতার কাছে

তবুও ভাবলাম , কেন আমি দাঁড়িয়ে ছিলাম ওই জানালার কাছে

কি অবাক কান্ড! বোকার মতো মুচকি হাসলাম নিজের  সাথে

মেঘ বললো, কিছু সময় আসে জীবনে যা কখনও যায়না বুঝা

কোন শব্দ, কোন নীরবতা কোন অন্ধকার , কোন আলো

বুঝতে পারেনা বা বুঝাতে পারেনা জীবনে এমন সময় কোন আসে।

কবির আরজ আবদার

কবিদের বিরুদ্ধে শত অভিযোগ মানুষের এখানে ওখানে সবখানে

প্রভুইতো কবিদের কথা বলতে আর লিখতে শিখিয়েছেন নিজের মতো করে

কবির নিজের কোন কথা নেই, কবি বলেনা কখনও কোন কথা

প্রভুইতো ভেবেছেন  এমন মানুষের কথা অনেক কাল, যে মানুষ ছিল তার

চিন্তা চেতনায় আর প্রাণের গভীরে  হাজার লক্ষ বছর ধরে।

প্রভু তুমিইতো করেছো কাউকে নবী রাসুল, কৃষ্ণ গৌতম আর সক্রেটিস

তবুও তোমার সাধ মিটেনি, মিটেনি প্রাণের তৃষ্ণা, তাই পাঠালে একেবারে

নিজের মনের  মতো করে , আহমদ আর মুহম্মদ করে জগতের তরে

আমিওতো চাই বলতে তোমার কথা যেমন তুমি শিখিয়ে দেবে রূহের ভিতর

দাও ঢেলে দাও শুধু একবার এক জর্রা রুহানী আলো এই গোলামের অন্রে।

কবি বলো দার্শনিক বলো, দরবেশ বলো আর মজনু ফকির বলো

যে নামেই ডাকো, তবু ডাকো শুধু একবার ডাকো নিজের মতো করে

এই গোলাম রইবো হাজির যখন যেখানে যেমন করেই ডাকো আপন করে

এখানে বেগানা বিভুঁইয়ে কে আছে আমার তুমি ভালোই জানো আমার চেয়ে বেশী

  • দিনপন্জী

  • খোঁজ করুন