আমি একটি পুরাণো ঠোংগা

ছেঁড়া ফাটা ঠোংগার মতো আমি এখন পড়ে থাকি ওয়েস্ট পেপার বাক্সে

বাক্সটা ভরে গেলে চলে যাবে আমি চলে যাবো কর্পোরেশনের ময়লার ড্রামে

এরপর কি হয় বা কি হবে তা আপনারা সবাই খুব ভাল জানেন আমার চেয়ে

আমার কি হয়েছে? কেনইবা হয়েছে এমন আমি নিজেও জানিনা ভাল।

এটুকুই সন্দেশ আছে হাল সময়ে এখনকার মতো আপনাদের সবার জন্যে

যদি সময় হয় তাহলে নিশ্চয়ই বিলাবো আরও অনেক সন্দেশ

সময় হবে কিনা জানিনা, যা দিনকাল পড়েছে এখন চারিদিকে

সত্য সন্দেশের এখন কোন দাম নেই, মিথ্যার দাম তোলায় তোলায়।

আপনার জানা শোনা নামী দামী সবাই খুলে বসেছে জমকালো মিথ্যার দোকান

আর আমি সেই দোকানেরই পুরাণো ঠোংগা, বসে আছি কর্পোরেশনের গাড়ির লাগি।

Advertisements

মানুষ পুরাণো হলে

মরচে ধরা সবকিছুই নিয়ে যায় ফেরিঅলা আর ভাংগারীরা

পুরোণো কাগজ কিনে নেয় তারা যারা ঠোঙা বানায় দোকানীর

পুরাণো সব কিছুরই একটা দর দাম আছে সবার কাছে এখানে ওখানে

কিন্তু পুরাণো মানুষের হালত কি হয় আপনার কি জানা আছে?

হয়ত নেই, হয়ত কথাটা নিয়ে আপনি একটা গভীর ভাবনায় পড়েছেন

ভাবছেন মানুষ কেমন করে পুরাণো হয়, ফুরিয়ে যায় তার দর দাম

আপনি হয়ত প্রশ্ন করতে পারেন, কত পুরাণো, খুব বেশী কি পুরাণো?

আপনার মনে কি প্রশ্ন ঘুর পাক খাচ্ছে আমিই বলে দি আপনার হয়ে।

টানাটানির সংসার, ছেলেদের ভাগ বাটোয়ারা হয়ে গেছে

মা’র গতর খান বড়ই জইফ এখন , তাই কেউ নিতে রাজী হয়নি

বেশ কিছুদিন এ ঘর ও ঘর করে মায়ের দিন কেটেছে

এখন আর কাটেনা দিন, মা তাহলে কোথায় যাবে আপনারাই বলুন

যাদের বিত্ত আছে তাদের মা বৃদ্ধাশ্রমে চলে গেছে সে অনেকদিন

যাদের বিত্ত নেই, রাজ আনে রোজ খায় তাদের মা এখন পথের ধারে।

চেয়েছি মানুষ হতে

জীবনের সার্কাস দেখে দেখে আমি এখন বাইরের কোন সার্কাস দেখিনা

নিজের অদৃশ্য সার্কাসে আমি সকাল বিকাল হাতি ঘোড়া ভল্লুক হই

সারা দিন সারা রাত নিজেকে নিজেই সার্কাস দেখাই আমি একাই

কোথায় আমার স্বাধীনতা যার জন্যে  আমি দেয়ালে মাথা ঠুকি।

সারাটা জীবন লড়াই করেছি স্বাধীনতার জন্যে, যেমন  কেউ কেউ  করে

আমার ভুগোল আছে, জাতীয় সংগীত আছে, আছে মায়াভরা লাল সবুজের পতাকা

আমি গলা উঁচিয়ে গেয়ে উঠি ,আমার সোনার বাংলা আমি তোমায় ভালবাসি

বিশ্ব সভায় গলা তুলে বলি, বার বার বলি , আমাকে দেখো আমি এসেছি।

তবুও কেন আমি বন্দী থাকি অদৃশ  কারাগারে,যেখানে নেই কোন পাহারাদার

আমি কি পাবনা মুক্তি  এই অদৃশ বন্দিশালা থেকে এ জীবনে কখনও

সার্কাসের এই পশু পশু সং সং খেলা কতদিন চলবে কে বলে দেবে আমায়

আমি কি হবোনা মানুষ নিজের মতো করে যেমন আমি চেয়েছি সারাটা জীবন।

আমি আসামী হয়েই রয়ে গেলাম

আমার বসতিতে আমার নিজের সম্পদ বলে তেমন কিছু নেই

মুল্যবান যা কিছু ছিল সব বেচে দিয়ে বেঁচে আছি একটি ছবি নিয়ে

সকাল বিকাল দুপুর সন্ধ্যা দেখি ওই ছবি, যদিও নেই ছবির মানুষ

আমি আর ছবি দুজনেই বাস করি বসতির কোনে বড়ই একাকী।

ছবিটা নিয়ে সবার কেমন কানাঘুষা রাতদিন কারণে অকারণে

তোমার জন্যে বরাদ্দ আছে কয়েক ইঞ্চি দেয়াল জমি আমারই কোনে

জানিনা তবুও এত কথা কেন ওই ছবি নিয়ে আমি সত্যিই বুঝতে পারিনা

একথা সত্যি যে তুমি এখানে নেই স্বশরীরে আমার কাছে  আর সবার মাঝে।

থাকাটা জরুরী কেন আমি তাও বুঝতে পারিনা শত চেস্টা করেও

না থাকা যায় একথাটা কেন যে সবাই বুঝতে চায়না  আমি বুঝতে পারিনা

আমিতো বেশ আছি তোমার শরীরি উপস্থিতি ছাড়া সে অনেক কাল

আর কতকাল আমি নিভৃত নির্জন এই বসতিতে থাকবো তুমিই বলো

আমার কি এমন অপরাধ ছিল তোমার চলে যাওয়ার জন্যে  আজও জানিনা।

আমার কোন বিচারও হয়নি কোন আদালতে, এমন কি তোমার আদালতে

তবুও আমি আসামী  হয়ে পড়ে আছি বসতির এই কোনে নিরবে নির্জনে

শুধু আছে এক টুকরো সম্পদ তোমার ছবি যা বুকে ধরে রাখি দিনরাত

আর কত সূর্য আর কত চন্দ্র অতিক্রম করে যেতে হবে আমাকে জানিনা।

হোয়াট মাস্ট বি সেইড / গুন্টার গ্রাস

যা অবশ্যই বলতে হবে     / গুন্টার গ্রাস

আমি কেন নীরব হয়ে আছি

কেন গোপন করে রেখেছি

যুদ্ধ যুদ্ধ খেলার রহস্য

আর আমরা বেঁচে আছি

যুদ্ধের পাদটীকা হয়ে।

বলা হচ্ছে  ইরাণী জনগণকে

নিশ্চিন্ন করার জন্যে শুধু

তাদেরই অধিকার আছে

প্রথম আঘাত করার জন্যে।

শক্তি দিয়ে তাদের পদানত করার জন্যে

তারপরে আনন্দ মিছিল করা

সবই তারা করতে পারে

কারণ তাদের ক্ষমতা আছে।

সন্দেহ হচ্ছে  তাদের কাছে

আনবিক বোমা  আছে

তবুও আমি কেন ওদের নাম

বলতে নিজেকে নিষিদ্ধ করে রেখেছি।

যাদের কাছে আনবিক বোমা আছে

তাদের নামও কেউ বলছেনা

তাদের ওখানে কোন পরিদর্শক

কখনও যায়না।

একথাটি একটি সার্বজনীন সত্য

আমার নীরবতাও এ মিথ্যাকে সমর্থন দিয়ে গেছে

এটা একটি অপরাধ ও শাস্তিযোগ্য অপরাধ

সকল অত্যাচারকে সমর্থন জানিয়েছে।

আমার নিজদেশও সেমেটিকদের বিরুদ্ধে

কাজ করে গেছে

বার বার এই অপরাধে আমার দেশও দোষী

যতবার এই অপরাধ সংঘটিত হচ্ছে

আমার দেশ তাতে সমর্থন দিয়ে আসছে

ইজরায়েল তার যুদ্ধাস্ত্র গুলো সেইদিকে তাক করে আছে

যেখানে আনবিক বোমার কোন নিশানা নেই

এক্ষেত্রে একমাত্র প্রমান ভয় ও অবিশ্বাস

আমি তাই বলছি

যা অবশ্যই বলা দরকার

কিন্তু আমি এতদিন চুপ ছিলাম কেন?

মনে হয় আমি আমার অরিজিনের কথা ভেবেই

যেখানে রক্তের দাগ এখনও মুছে যায়নি

এ সত্য কথাটি বলতে

আমাকে কে  নিষেধ করেছিল

ইজরায়েলকে অবশ্যই সত্যকথা

গুলো বলা দরকার

যেখানে আমার বন্ধন রয়েছে

এ বন্ধন আগামীতেও জারী থাকবে।

কিন্তু এখন আমি এ কথা গুলো বলছি কেন

আমারতো সময়ও শেষ হয়েছে

কালিরও আছে শেষ বিন্দু

আমি বলবো বিশ্ব শান্তির প্রধানতম বাধা

আনবিক শক্তিধর ইজরায়েল

আমাকে আজই এ সত্যটা বলতে হবে

বলার জন্যে আগামী কালও বেশ দেরী হয়ে যেতে পারে

আমরা জার্মানদের অপরাধের বোঝা বেড়েই চলেছে

আমি দেখতে পাচ্ছি আমাদের দেশ আবারও

অপরাধের সাথে হাত মিলাতে চলেছে

আমি এটা নিশ্চিত।

তাই আমি আর চুপ থাকতে পারিনা

পশ্চিমের ভন্ডামীতে আমি ক্লান্ত হয়ে পড়েছি

আমি আশা করছি এবার সবার নীরবতা ভাংবে

অনেকেই মুক্তি পাবে নীরবতার অপরাধ থেকে।

আমি অপরাধী ও শান্তির শত্রুদের কাছে

আকুল আবেদন করছি

তোমরা সন্ত্রাসকে পরিহার করো

আমি আরও দাবী করছি

ইজরায়েলের আনবিক ক্ষমতাকে নিয়ন্ত্রন করার জন্যে

ইরাণ ইজরায়েলের আনবিক ক্ষমতার

পরীক্ষা হোক আন্তর্জতিক ভাবে

যাতে দুদেশেরই সম্মতি থাকবে।

(বিশ্বখ্যাত জার্মান কবি গুন্টার গ্রাসের এই কবিতাটি  জগতজোড়া আলোড়ন সৃস্টি করেছে।

সর্বত্র তোলপাড় শুরু হয়েছে।  কবি এরশাদ মজুমদার এই কবিতার একাংশে ভাবানুবাদ

করেছেন।)

প্রতিপক্ষ

সত্যিই আমি এখন বড়ই শ্রান্ত ও ক্লান্ত আর এগোবার পথ নেই

তাই বসে আছি নিজের মতো করে কারো সাথে নেই কোন লেনাদেনা

তবুও আমার পিছু ছাড়েনা আমার প্রতিপক্ষ সকাল বিকাল মধ্যরাত

বড়ই একা আমি নির্জনে বসে ভাবি কেন এমন হলো আমার হালত

আমিতো কারো  হাতেও নেই সাথেও নেই তবুও কেন আমার প্রতিপক্ষ।

এর চেয়ে ঢের ভাল ছিল সবার সাথে ছিলাম, ভালো হোক মন্দ হোক

দিন কেটে যেতো দিনের মতো করে সবার সাথে হাসি কান্নার মাঝে

প্রতিপক্ষ তখনও থাকে লম্বা এক ভীড়ের মাঝে কি যেন বলবে বলে

তাই নির্জনে গভীর অন্ধকারে গিয়েছি আমি তার কথা শুনবো বলে

তবুও কোন কথা হয়নি তার সাথে আজও আমার জানিনা কেন

কেন সে নিজের গোপন কথা বলেনি এতদিন এতকাল পরেও।

ল্যাপ্টে রবো তোমার প্রাণের ভিতর।

তুমি যদি মুখ ফিরিয়ে নাও আমি কোথায় যাবো

একবার , শুধু একবার ভাবো তোমার  আমার সম্পর্ক

তুমি বা আমি মুখ ফিরিয়ে নিলেই কি শেষ হয়ে যাবে

আমাদের এ সম্পর্ক যা সৃস্টি হয়েছে জন্মাবার বহু আগে।

হুট করে এমন কেন কর তুমি  আমাকে নিয়ে বুঝতে বড় কস্ট

হয়ত আমি একটু বেশীই  বেহায়া তোমার সাথে লেপ্টে থাকি

যতই তুমি মুখ ফিরিয়ে নাও বা  মুখ ফিরিয়ে রাখ আমার থেকে

আমি কখনই যাবোনা এ জীবনে তোমায় ছেড়ে  সেতো  ভালই জান

তবুও এ ভাগ্যহীনের সাথে অমন অভিমান করো কেন বলো

যতই ফেরাও মুখ  যতই করো অভিমান কিছুতেই কিছু হবেনা

তামি তোমার সবকিছু জড়িয়ে ধরে ল্যাপ্টে রবো তোমার প্রাণের ভিতর।

  • দিনপন্জী

  • খোঁজ করুন