এবার ছুটি চাই সবার কাছে

ছুটিতে যাবার মতো কোন ছুটি আমার হাতে নেই

ইচ্ছার বিরুদ্ধেই আমি এখানে পড়ে থাকি বন্দীর মতো

সত্যিই আমি ছুটি চাই, একটু ছুটি আমার বন্দী দশা থেকে

জগত সংসারের বেড়াজালে আমি আটকা পড়েছি

যেমন মাছ আটকা পড়ে নিজের ইচ্ছার বিরুদ্ধে।

জানিনা, জন্মই কি আমার বন্দীত্ব জীবন নামের খাঁচায়

কি কাজ আমার এখানে, জানতে পারিনি শত চেস্টা করেও

যেখানেই গিয়েছি, যার কাছেই জানতে চেয়েছি কেউ বলেনি

হয়ত তারাও কেউ জানেনা তেমন প্রশ্নের উত্তর।

ছুটি চেয়েও আমি এতটুকু ছুটি পাইনি কারো কাছে

ছুটির কথা শুনলেই জানিনা , সবাই মুখ ফিরিয়ে নেয়

সবাই কি তাহলে আমার মতো ছুটি চায়নি কখনও

সবার ভাব যেন, এমন ছুটির কথা কেউ কখনও শোনেনি

তবুও আমি ছুটি চাই তোমাদের সবার কাছে অতি আপন জন ভেবে।

মাতাল চোখের নেশা

প্রাণের গভীরে অতলের তলে তুমি থাক আমার সাথে

তবু  কেন মনে হয় তুমি কাছে নেই, দূরে বহু দূরে

তবু কেন মনে হয় তুমি কোথাও নেই এখানে ওখানে

তুমিতো বলেই চলেছো সবখানে আছো তুমি, অতি কাছে।

চোখের নেশায় কাতর আমি, যে চোখ দিয়েছো তুমি

অদৃশ্যেরও অনেক গভীরে থাকো তুমি প্রাণের গভীরে আছো বলে

আমিওতো চাই তোমায় দেখিতে যেমন দেখেছে তোমার ইব্রাহিম

মুসাকেও তুমি দিয়েছো দেখা আপন মহিমা ও কুদরতে।

অতি তুচ্ছ হলেও আমি ভালবাসি তোমায় নিজের চেয়েও বেশী

অন্তরে আছো ভাবেতে বুঝি, অনুভব করি দেহমন দিয়ে

শুধু একবার বলো, কেমন করে মানাবো  এ চোখ তোমারই দেয়া।

 

আমি এক আসামী সবার কাছে

কথা ছিল আমি তোমাদের বলবো এক সঠিক পথের কথা

কিন্তু বলতে পারিনি, জানিনা কেন এমন হয়েছে আমার

কথা ছিল আমি তোমাদের বলবো এক কিতাবের কথা

যা তোমাদের পথ দেখাবে,যে পথ দেখে তোমরা আলোকিত হবে

কথা ছিল আমি তোমাদের বলবো এক  আলোকিত মানুষের কথা

কথা ছিল আমি তোমাদের বলবো আরেক নতুন জীবনের কথা

না, আমি কিছুই বলতে পারিনি তোমাদের জানিনা কেন।

আমিতো কথা দিয়েছিলাম, তোমাদের সকল সত্য কথা বলবো

তাহলে আমার এমন হলো কেন? আমিতো এখন এক আসামী

তোমাদের সবার কাছে, জগতের সব ভাল মানুষের কাছে

সত্যকথা সরল কথা সোজা কথা বলার দায়িত্ব ছিল আমার কাঁধে

আজ আমি স্বীকার করছি আমার সকল ব্যর্থতার কথা

তোমরাওতো বলবে আমার ব্যর্থতার কথা, কেন আমি বলিনি

বলার জন্যে দায়িত্ব পাওয়া সকল কথার  সেরা কথা, যা জানতেই হবে।

তাই আজ আমি এক আসামী তেমাদের কাছে, আর আমার বিবেকের কাছে।

নিজে মুক্ত করো

আমার কাছে আসবে কেন তুমি

তুমি যা চাও আমি তা নই

তুমি তৃষ্ণার্ত আমার কাছে জল নেই

তুমি ক্ষুধার্ত আমার কাছে খাদ্য নেই

আমিতো জানি তুমি চাইতে চাইতে

শেষ করেছো তোমার জীবন।

তোমার চাওয়ার কোন শেষ নেই

তাই তুমি রয়ে গেলে চির ভিখেরী হয়ে

মুক্ত করো নিজেকে তুমি সকল বন্ধন থেকে

খালি করো তোমাকে জগতের সকল চাওয়া থেকে

তারপর আসো এই এখানে আমার কাছে

দেখবে তুমি সবকিছু পেয়ে গেছো যা তুমি চেয়েছো

তখন আমিই হয়ে যাবো তোমার

আর তুমি মুক্তি পাবে সকল বন্ধন থেকে।

আটই মার্চ একদিন

এইদিন একদিন অন্ধকার আলো বাতিহীন সুড়ংগ পথ বেয়ে

নেমে এসেছি অচেনা অজানা পৃথিবীর এই খানে পিঠে ভর দিয়ে।

তারপর পথ হেটে হেটে আজ এখানে তোমাদের মাঝে এসে দাঁড়িয়েছি

আবার চলে যাবো একাকী পিঠে ভর দিয়ে কারো কাঁধে চড়ে  একদিন।

আমিতো ছিলাম সীমা্ীন এক আলোর জগতে আমার প্রিয়তমের সাথে

জানিনা কী দোষে সে আমায় পাঠিয়ে দিলো নিজেকে বিচ্ছিন্ন করে

আজও হয়নি জানা কী ছিল আমার দোষ , কেন এসেছি এই বেগানা জগতে

অবাক এক পথিক আমি, কেন চলেছি এমন পথে কেনইবা ফিরে যাওয়া

আমি শুধুই পথিক এক, জানিনা কোথায় যাবো কি আমার গন্তব্য।

শেষ করে দাও প্রিয়তম আমার এই পথচলা, এবার ফিরে যাবো তোমার কাছে

আমিতো তোমারই স্বপ্ন, তোমারই রূপ তবু কেন পড়ে আছি এই অচেনা পথে।

 

নিজেকে অচেনা মনে হয়েছে

আমরা অনেক কথা বলেছি, অনেক শুভেচ্ছা বিনিময় করেছি

তবুও মনে হয়েছে আমরা  একে অপরের অনেকদিনের অচেনা

জানিনা আর কত কথা কত দেখা শোনা হলে আমরা বন্ধু হবো

কখন আবার দেখতে পাবো নিষ্পাপ নিষ্কলংক সবুজের সমারোহ

কত বৃস্টি হলে সব ধুয়ে মুছে সাফ হবে এমন রক্তের দাগ

যত মান অভিমান, যত যোগ অভিযোগ ছিল সবই ভুলে যেতে চাই

হৃদয়ের সব কথা  হৃদয় খুলে বলতে চেয়েছি বার বার

কেন যেন পারিনি, ফিরে এসেছি বার বার বন্ধু সমুখ থেকে

অদৃশ্য জখমে ভরা  হৃদয়ের এমন নিস্ঠুর বেদনা কখন যে হবে চুপচাপ

যত না বলা কথা রয়ে গেল ফয়েজের এই দুটো ঠোটে

জানিনা কখন আবার দেখা হবে, কখন বলবো আমার জমানো কথা।

(উপ মহাদেশের কিংবদন্তী কবি ফয়েজ আহমদ ফয়েজ বাংলাদেশ সফর করে এই কবিতাটি

লিখেছিলেন উর্দুতে ‘ হামকে ঠেহরে আজনবী’ এই শিরোনামে। এটি ইংরেজী অনুবাদ

করেছেন সাদিয়া। বাংলা ভাবানুবাদ করেছেন এরশাদ মজুমদার)