ইচ্ছার বিরুদ্ধে কেন ভাববো আমি

এখানে সময় শেষ হয়ে গেলে যেখানে যাবো সেখানে

সময় কেমন তাই ভেবে ভেবে আমার সময় কাটে

ভাবনার কোন শেষ নেই , নেই কোন সুরাহা

তবুও নিজেকে প্রশ্ন করি যখন যেতেই হবে তখন

এত ভাবনা কিসের যাবার আগে।সময় হলেই দেখা যাবে।

এই পৃথিবীতে কার জন্যে কত সময় বরাদ্দ আছে

তা কেউ জানেনা। এখানে কেউ নিজের ইচ্ছায় আসেনা

কেউ কখনও যায়না ফিরে অজানা সেখানে নিজের ইচ্ছায়

অবাক বিস্ময়ে আমরা সবাই দেখছি এমন আসা যাওয়া।

বহুবার ভেবেছি আর ভাববোনা এমন সময় দিনক্ষণ নিয়ে

তবুও আমাকে ফাঁকি দিয়ে সময়ের ফাঁক ফোকরে ভাবনারা

ঢুকে পড়ে আমার ইচ্ছার বিরুদ্ধে। তাহলে কে আমায়

এমন করে এ ভাবে অবিরাম ভাবিয়ে যায় অজানা বিষয়ে

আসাও আমার নয়, যাওয়াও আমার নয়

তাহলে ভাববো কেন আমি নিজের ইচ্ছার বিরুদ্ধে।

Advertisements

জীবন

জীবনে আসা আর জীবনকে ত্যাগ করে যাওয়া

কিছুইতো আমার হাতে নেই,তাহলে জীবনটা কার

কেনইবা এ জীবন বয়ে চলছি , কতকাল বইবো

তাও জানিনা এই আমি, আমিই নাকি জীবনের আধার।

কেইবা বইছি এ জীবন, তা কখনই হয়নি জানা এ জীবনে

যেমন এসেছি আমি নিজের অজান্তে  আর অনিচ্ছায়

ফিরেও যেতে হবে, যে যাওয়ায় আমার নেই কোন হাত

তাইতো আমি ভেবে পাইনা  এ জীবনের মানে কি।

আসা আর যাওয়ার মানে জীবনের কি উদ্দেশ্য তাও জানা নেই

তবুও আমি  অনিচ্ছায় বয়ে চলেছি এ জীবনকে

যা কখনও কোথাও  ছিলনা আমার এখানে ওখানে।

 

 

প্রজন্ম

বাপদাদারা কেমন ছিলেন সে জানায় আমাদের কাজ নেই

পুরণো দিন মানেইতো পুরণোর মাঝে ফিরে যাওয়া

বিজ্ঞান ছেড়ে দিয়ে পড়ে থাকতে হবে ঠাকুমার ঝুলির গল্প নিয়ে

তেমন জীবনে আমরাতো আর ফিরে যেতে পারিনা কিছুতেই।

বাপদাদাদের জীবন মানে কুপিবাতি আলোহীন অন্ধকার জগত

শুনেছি সে সময়ে নাকি চারিদিকে ভুত প্রতেরা ঘরতো আপন মনে

তাঁরা সবাই নাকি চিড়েমুড়ি নিয়ে  এক ঘন্টার পথ তিন দিনে পার হতেন

গরুর গাড়ী নৌকো আর পায়ে হাটা দিয়েই তাঁরা চলতেন এখানে ওখানে।

কথায় কথায় তাঁদের ব্যারাম হতো আর মরে যেতেন বিনা চিকিত্‍সায়

রেডিওর খবরও সহজে কেউ করতোনা বিশ্বাস যতই সত্য হোক

বাড়ি ভর্তি মেহমান, রাতদিন পাক ঘরে আগুন চারিদিকে কিলবিল

ধানের গোলা, ধানের মাড়াই, চার হলোর বলদ, পুকুর ভরা মাছ।

এসবতো শুধুই গল্পর কথা, কেউ কখনও দেখিনি জীবনে তাদের

আমরা নতুন যুগের মানুষ, কোন আগ্রহ নেই ওসব বানানো গল্পে

আমরা নতুন জেনারেশন, গুগল ফেসবুক আর টুইটারে মুখ ডুবে থাকি

সকাল সন্ধ্যা সিরিয়াল দেখি হিন্দী অথবা ইংরেজী, বাংলিসে কথা বলি।

পুরণো দিনে আমাদের কোন আগ্রহ নেই , নেই এক বিন্দু আবেগ বা ইমোশন

তাঁরা কবরে আছেন ভালই আছেন, আমাদের থাকতে দিন প্রিয়তম নতুনদিনে

বাপদাদা মানেই অতীতে ফিরে যাওয়া, অতীতে মুখ লুকিয়ে বর্তমানকে অস্বীকার করা।

অহংকারের এমন পুরস্কার

আমি ভেবে কুল পাইনা, অবাক বিস্মিত হই

যে বিদ্রোহ করলো, শুনলোনা তোমার আদেশ

তাকে দিয়েছো তুমি অপার সীমাহীন ক্ষমতা

আমারই বিরুদ্ধে, যে তোমার অনুগত অপার অসীম।

বিদ্রোহ আর অবাধ্যতার এমন পুরস্কার দেখেনি কেউ কখনও

বিদ্রোহীকে দিয়েছো তুমি এক জীবন শয়তানীর কেয়ামত তক

আর আমার ভাগ্যে  রেখেছো সময়ের কয়েকটি বিন্দু মাত্র

এবার তুমিই বলো এমন বিচার কেউ দেখেছে কখনও।

আমি জানি আমি তোমার প্রিয়ের চেয়ে অতি প্রিয়তম

আমাকে দিয়েছো তুমি প্রেম প্রীতি ভালবাসা অপার

জানি আমি আমারই জন্যে সৃজিছো তুমি সারা মাখলুকাত

করেছো আমায় সবার শ্রেস্ঠ জগতের সেরার সেরা।

তাবত সৃস্টিকে করেছো আমার দাস শুধুই ভালবাসার কারণে

আমিইতো বহন করি জগতের এপার ওপার সবখানে তোমার বাণী

তবুও বিদ্রোহীকে কেন দিলে এমন হায়াত আর  অত অহংকার

সেই বেয়াদব বিদ্রোহী অহংকারীর জ্বালায় আমি এখন বড়ই লাচার।

এবার তুমিই বলো

আসলে তুমি কে?

তুমি কি কোথাও আছো?

নাকি, আমি ভাবছি বলেই

তুমি আছো

আমি বলছি বলেই তুমি আছো।

আসলে তুমি কোথায় আছো?

তুমি কি শুধু আমার ভাবনায় আছো?

তুমি কি শুধু আমার শব্দে আছো?

আমি যদি না ভাবি তোমায়?

আমি যদি না বলি তোমার কথা?

তুমিই বলো এবার

তুমি আমি কে?

কেমন করে মিলন হলো

দুজনের এখানে ওখানে

এবার তুমিই বলো।

বিচ্ছেদের হবে অবসান চিরতরে

আমাদের বিচ্ছেদের একাত্তুর পুর্তি হলো এবার

একথা তুমি বেশ ভালই জানো  আমার চেয়ে

জানিনা তুমি কি কখনও ভাবো  এ বিচ্ছেদের কথা

তুমিই বলো কেমন করে সইছি আমি এমন বিচ্ছেদ।

আলাদা হয়েও আমি হতে পারিনি আলাদা এই অন্তরে

শুধু মনে হয় কখন মিলিত হবো আমরা দুজন

কোথায় আবার দেখা হবে, কখন সমাহিত হবে চিরতরে

আমি জানি, তুমিও জানো আমার অবিনাশী প্রেমের কথা

আমি তুমি আমায় ডেকে নেবে মিলনের মেলায় একদিন।

সেদিন স্বর্গ নেমে আসবে আকাশে পাতালে, বেজে উঠবে

মহা আনন্দের সকল সংগীত, এমন মহামিলনের সুর

কেউ শোনেনি কোথাও আমি আর তুমি ছাড়া ।

 

সবাই আমরা একই সৃস্টি

চারিদিকে সবাই বলছে আমিও সৃস্টি তোমার মতো

এখানে সবারই আছে অধিকার যার যেমন

শুধু নিজের ভেবে ভেবে আর কতকাল থাকবে তুমি

বিচ্ছিন্ন হয়ে সকল সৃস্টির কাছ থেকে।

এই যে দেখছো আকাশের তারা, নীল আকাশ, হিমালয়ের চূড়া

অতল সাগরের তল সবাই তোমার সাথী অতি আপনজন

সবুজ ধানের ক্ষেত, রূপালী নদীর রূপ মাছরাঙা পাখির নাচন

অপরূপ জোছনা রাত, ভোরের নরোম সূর্য

সাবাই তোমার সাথী চির জনমের।

তুমি আমি আমরা সবাই বেঁচে আছি সৃস্টির নিয়মে

আমরা একগুচ্ছ প্রাণ একই সূত্রে উত্থান সবার

তুমিতো হওনি সৃস্টি শুধু নিজে নিয়ে একাকী হতে

আসো আমরা সবাই অনুগত হই তারই কাছে

যারই  হাতে নিশ্চিত রয়েছে আমাদের সবার জীবন।