অদৃশ্যের সাথে মিলন

চলেই যাবো
এবার চলেই যাবো প্রিয়তম
তোমার দৃশ্য জগত ছেড়ে
অদৃশ্যের কাছে
যার ডাক শুনি
রাতে আর দিনে।
আমি এবার যাবোই চলে
আর ডেকোনা প্রিয়
দৃশ্যের মাঝে তোমার
মুখ খানি দেখে দেখে
ভুলেছি আমার অদৃশ্যেরে
এবার বিদায় দাও হাসি মুখে
লুকিয়ে রাখো তোমার চোখের জল।
আমার বিদায় বেলায়
উত্‍সব করো
হাসি গাণে আনন্দে
যেতে দাও বাধাহীন ভাবে
চলেছি আমি মিলিত হবো
জীবনের সাধনা প্রিয়তমে।

আমি আর আমি ও আমি

আমি আর আমি আর আমি / এরশাদ মজুমদার

আমি ছিলাম
আমি আছি
আমি থাকবো ।
আমি আগেও ছিলাম
এখনও আছি
আগামীতেও থাকবো।
লক্ষ কোটি বছর পরেও
আমি থাকবো
লক্ষ কোটি বছর আগেও
আমি ছিলাম
আর আমি এখনও আছি।
তোমরা আমায় দেখেছো
তোমরা আমায় দেখছো
তোমরা আমায় দেখবে।
আমার কোন উদয় নেই
আমার কোন অস্ত নেই।
আমার কোন সকাল নেই
আমার কোন দুপুর নেই
আমার কোন রাত্রি নেই
আমি সকল কালের মাঝে
এক মহাকাল
আমার মাঝেই আমি থাকি
আমিই থাকি আমার হয়ে।

রাজার ভাবনা

আমি ভাবতাম
আমি ভাবি
আমি ভাববো
আমি নাকি প্রতিবাদী ছিলাম
আমি যুবক ছিলাম
এখন কিছুই নাই
এখন ভাবিনা
দেশের রাজা ভাবনা পছন্দ করেন না
তিনিই সবার ভাবনা
নিজেই ভাবেন।
আমি নাকি ভিন্ন কিছু ভাবতে চাই
রাজা যা ভাবেন না
রাজা বলেন সুখে থাকো
ভাবলে অসুখ হবে
ভাল থাকবেনা
সংসার ভেংগে যাবে
সুখ পালিয়ে যাবে
দেশের অসুখ হবে
রাজা অসুখী হবে।
রাজা বলেন বউ বাচ্চা নিয়ে ভাবো
নিজের চরকায় তেল দাও
তোমার ভাবনা কিসের?
মনে পোকা ঢুকবে
মন নষ্ট হবে
মাথায় পোকা ঢুকবে
রাজা বলবেন
তুমি পাগল হয়ে গেছো
পাগলা গারদে যেতে হবে।
প্রজার সুখ রাজার সুখ
প্রজা ভাবলেই
রাজা কি ভাববেন?
ভাবনাহীন দেশই
স্বাধীন দেশ
তুমি কি স্বাধীন চাওনা?
তুমি কি স্বাধীনতা বিরোধী?
রাজা বলবেন
তোমার বুঝি
স্বাধীনতা ভাল লাগেনা?
তাহলে তুমি মুক্ত জীবনে চলে যাও
তোমাকে আমি মুক্ত করে দিলাম
কারণ, তুমি রাজার চেয়ে
বেশী বেশী ভাবো
যা রাজা পছন্দ করেন না।

এক আর একে এক

এক আর একে যদি এক হয়
তোমার সাথে আমার এক হওয়া
কত কালের ত কি তুমি জানো
আদম হাওয়া কেমন করে হয়।
রূ্ের ভিতর অন্য বসত করে
বাইরে দেহের সাথে তুমি পঞ্চাশ।
আর কত কাল আমরা লেপ্টে থাকবো
আসো আমরা এক থেকে এক বিচ্ছিন্ন হই
তার পরেই শুধু শূণ্যতা।

সময়ের বন্দী জীবন

সময়ের বন্দী জীবন থেকে
আমি ফিরে যেতে চাই
সময় হীনতার মাঝে
যেখানে ছিলাম আমি
মাটির শরীরের আগে।
আমি ছিলাম শুধুই
আলোর একটি বিন্দু
আলোময় জগতে
বন্ধনহীন সময়হীনতার মাঝে।
সময়ের প্রভু বললেন
এখানেই থাকো আমার সাথে
প্রাণের জগতে
শুধু ভালবাসা হয়ে।
জানিনা প্রিতম আমার
কেন বিরাগ হলেন
সময়ে বন্দী করে
পাঠিয়ে দিলেন এ মাটির জগতে।
কপালে লিখা ছিল লোভ মোহ
আর সাথে দিলেন হাওয়ার
সংগমের অপার নেশা
আমি এসে গেলাম
আলো থেকে অন্ধকারে
এক অতি সাধারন প্রাণী হিসাবে।
জানিনা, এ কেমন ভালবাসা প্রিয়তম
এ কেমন পরীক্ষা
ভালবাসার জন্যে

একাকী অজানা মাঠে

নীরব ধু ধু ভরা উদার বিস্তীর্ণ মাঠ
আর আমি একাকী নির্জনতায় ডুবে আছি
কোথাও কিছু নেই
কেন যেন আমি দাঁড়িয়ে আছি
কিছুই পড়ছেনা মনে
এমন পরিবেশে ভেবেছিলাম
দেখা হবে তোমার সাথে।
হঠাত্‍ মনে হলো তুমিই ডেকেছো আমায়
চোখ দুটাে অবিরাম ঘুরছে চারিদিকে
তোমাকে দেখার আশায়
তা না হয়, কেন আমি দাঁড়িয়ে আছি
অমন বিস্ময়কর অজানা অচেনা মাঠে।
নিশ্চয় তুমি আসবে
হে আমার বন্ধু
হে আমার প্রিয়তম
নিশ্চয়ই মেহমান ডেকে নিয়ে
মেজবানের অনুপস্থিতি শোভা পায়না।
আমিতো দেখিনি কখনও
এমন উদার মাঠ কোথাও কখনও
আমি জানি এমন মাঠের মালিক
একমাত্র তুমিই
তোমার সৃষ্টির মতোই বিশাল।
দেখা দাও বন্ধু
অপেক্ষার ক্ষমতা তুমিতো
আমায় দাওনি কখনও
জগতে যখন যাকেই পাঠিয়েছো
সেই পাপ করেছে
এ জগত পাপমুক্ত নয়
আমিওতো তোমার একজন পাপী
ক্ষমা পাবার আশায় দাঁড়িয়ে আছি।

এখন বাংগালীরা কি চায়?

সাতচল্লিশে ভারত ভাগ হয়েছে বড় শরিকের

ছোটলোকি আর  জোর করে হিস্যা দখলের জন্যে

একাত্তুরে আবারও বেআইনী হিস্যা দখলের মারামারি

আবার দেশ ভাগ হলো মাত্র দুই যুগের ভিতর।

সংসারে বনিবনা না হলে বাপের সম্পদ ভাগ করে নেয়

ওয়ারিশরা টুকরো টুকরো করে।

দুই হাজার পনেরোতে এসে হাজার বছরের

বাংগালীরা আসলেই কি চায় কেউ কি  বলতে পারে?

সাতচল্লিশে বাংলাতো দুই ভাগ হয়েছিল ধর্মের কারণে

কেউ মুর্তি পূজা করে কেউ করেনা

এ কারণেই কি বাংগালীরা ভাগ হয়ে গেল?

এখন বাংগালীরা নতুন করে কি চায়

ভারতীয় ছিল, পাকিস্তানী হলো, তারপরে বাংগালী

এখন তারা আসলেই কি চায়।

Follow

Get every new post delivered to your Inbox.

Join 307 other followers